গণবার্তা

ইরানের হুঁশিয়ারি: স্থল হামলা হলে আমিরাতকে চড়া মূল্য দিতে হবে

আলোচনার বাহানায় ইরানে স্থল অভিযানের ছক কষছে আমেরিকা

আলোচনার বাহানায় ইরানে স্থল অভিযানের ছক কষছে আমেরিকা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘আলোচনার কথা বলে গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বার্তা দিলেও বাস্তবে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।’ ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে প্রতিরোধের মুখে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরানের আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত।

আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরান আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরাইলকে সহায়তা করে স্থল হামলা চালায় তবে আমিরাতকে ‘শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করা হবে’। এ অবস্থায় আমিরাতের ভেতরে মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে হামলার পরিকল্পনা করছে। আমিরাতের ভেতরে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় দেশটি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে তেহরান।

সামরিক পরিস্থিতি

  • ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে

  • যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে

  • সম্প্রতি ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। পাকিস্তান আলোচনার জন্য বৈঠক আহ্বান করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পারস্পরিক অভিযোগ-প্রতিউত্তর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আলোচনার পথ খোলা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ইরানের এই হুঁশিয়ারি আমিরাতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমিরাতের ভেতরে মার্কিন সেনা ঘাঁটি থাকায় দেশটির জনগণ উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি স্থল হামলা চালায় তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে এবং আমিরাত সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়বে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি আলোচনার বিকল্প নেই বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


আলোচনার বাহানায় ইরানে স্থল অভিযানের ছক কষছে আমেরিকা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘আলোচনার কথা বলে গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’ এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।রোববার (২৯ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার বার্তা দিলেও বাস্তবে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে।’ ইরানের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা প্রবেশ করলে প্রতিরোধের মুখে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরানের আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত।আমিরাতকে লক্ষ্য করে ইরানের হুঁশিয়ারিইরান আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরাইলকে সহায়তা করে স্থল হামলা চালায় তবে আমিরাতকে ‘শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করা হবে’। এ অবস্থায় আমিরাতের ভেতরে মার্কিন সেনা ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হচ্ছে।ইরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে হামলার পরিকল্পনা করছে। আমিরাতের ভেতরে মার্কিন ঘাঁটি থাকায় দেশটি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছে তেহরান।সামরিক পরিস্থিতিইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেযুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছেসম্প্রতি ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছেআন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ামধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। পাকিস্তান আলোচনার জন্য বৈঠক আহ্বান করেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পারস্পরিক অভিযোগ-প্রতিউত্তর মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আলোচনার পথ খোলা না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।ইরানের এই হুঁশিয়ারি আমিরাতের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। আমিরাতের ভেতরে মার্কিন সেনা ঘাঁটি থাকায় দেশটির জনগণ উদ্বেগে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি স্থল হামলা চালায় তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে এবং আমিরাত সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়বে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি আলোচনার বিকল্প নেই বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা