জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের নোটিস ঘিরে তীব্র বিতর্ক হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান নোটিস উত্থাপন করলে সরকারি ও বিরোধী সদস্যদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ অনুসারে নোটিস দিয়ে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, এতে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে।
সরকারি দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আগে প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১ এর নোটিসের ওপর আলোচনা শেষ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নোটিসের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, এটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে ৬৮ বিধিতে নোটিস দেওয়া উচিত ছিল। তার বক্তব্যের সময় বিরোধী সদস্যরা প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোল হয়।
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে সেটি ভুলে যাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং নিয়মিত কার্যসূচির আগে এর সুরাহা হওয়া উচিত।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। তবে আলোচনার আগে সংসদ সদস্যদের হাতে সংবিধান, জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশের কপি থাকা দরকার। তিনি জানান, সরকারও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল রুলিং দেন, আগামী মঙ্গলবার দিনের কার্যসূচি শেষে এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নোটিস সংশোধনের বিষয়টি আবার তুলতে চাইলে তার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত থাকলেও পরে সংসদ স্বাভাবিক আলোচনায় ফিরে আসে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন