নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিলাসবহুল বাড়ি ‘জান্নাতি প্যালেস’ জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন তিনি।
সুইমিংপুল, ব্যায়ামাগার, দামি আসবাব ও বাহারি কারুকার্যময় টেরাকোটায় সাজানো এই বাড়ি নাটোরে আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। স্থানীয়রা একে চিনতেন ‘এমপির বাড়ি’ নামে। অভিযোগ রয়েছে, এখান থেকেই ঠিকাদারি কাজ, পরিবহন খাত, চাকরির নিয়োগ-বদলি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রীড়াঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করতেন শিমুল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি কানাডায় পালিয়ে যান বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়ায়। তবে তা যাচাই করা যায়নি। আন্দোলনের সময় ক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কয়েক কোটি টাকার গাড়ি ও আসবাব পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ধ্বংসস্তূপ থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেছেন, শিমুলের বাহিনীর নির্যাতনে শত শত মানুষ পঙ্গু হয়েছেন, অনেকের প্রাণ গেছে। চাকরির নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আওয়ামী লীগের ভেতরেও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল।
শিমুলের পরিবারের সদস্যরা নাটোরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতে প্রভাব বিস্তার করতেন। তার ভাই ও ভগ্নিপতিরা জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ঠিকাদারি, খাদ্য গুদাম ও জলমহালের নিয়ন্ত্রণ করতেন।
৫ অগাস্টের পর শিমুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ একাধিক মামলা হয়েছে। নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ‘জান্নাতি প্যালেস’ ধ্বংসের মধ্য দিয়ে শিমুলের প্রভাবের অবসান ঘটেছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন