হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা উচ্চ জ্বর, কাশি, লাল চোখ ও সারা শরীরে ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। সঠিক প্রতিরোধ হলো টিকা—এমএমআর (Measles, Mumps, Rubella) ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ শিশুদের হাম থেকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে।
হামের লক্ষণ
- প্রথম ৭–১৪ দিনের মধ্যে সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দেয়।
- প্রাথমিক লক্ষণ: উচ্চ জ্বর (১০৪°F পর্যন্ত), কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, লাল ও পানি ঝরা চোখ।
- ২–৩ দিন পর: মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)।
- ৩–৫ দিন পর: লাল ফুসকুড়ি মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
- ফুসকুড়ির সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।
- জটিলতা: নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কান সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), এমনকি মৃত্যু।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
- হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই।
- চিকিৎসা মূলত লক্ষণ উপশম ও জটিলতা প্রতিরোধে সহায়ক।
- বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি।
- জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে (শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে)।
- শিশুদের ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হলে জটিলতা ও মৃত্যুহার কমে।
- নিউমোনিয়া বা কান সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ
- হাম বায়ুবাহিত রোগ, আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে সহজেই ছড়ায়।
- আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।
- প্রতিরোধে করণীয়:
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা।
- ঘর বাতাস চলাচলযোগ্য রাখা।
- হাত ধোয়া ও টিস্যু ব্যবহার করা।
- শিশুদের স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠানো যতদিন সংক্রমণ থাকে।
টিকা
- হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হলো MMR ভ্যাকসিন (Measles, Mumps, Rubella)।
- প্রথম ডোজ: ১২–১৫ মাস বয়সে।
- দ্বিতীয় ডোজ: ৪–৬ বছর বয়সে।
- দুটি ডোজ নিলে হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭%।
- ভ্যাকসিন নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয় এবং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মৃত্যু প্রতিরোধ করেছে।
হাম একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা নেওয়া, সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নিলে এটি প্রতিরোধযোগ্য। শিশুদের অবশ্যই এমএমআর ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করতে হবে। আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন