ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

ইরান-লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট পাস

ইরান-লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট পাস

ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বাজেট পাস করেছে ইসরায়েল। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পার্লামেন্ট নেসেটে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন শেকেল বা ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই যুদ্ধকালীন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ভোটাভুটির সময় কয়েক দফা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তায় সাইরেন বেজে উঠলে সংসদ সদস্যরা নিরাপদ বাঙ্কার সদৃশ সুরক্ষিত কক্ষে গিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করেন। ক্ষমতাসীন জোটের ৬২ জন সদস্য বাজেটের পক্ষে এবং ৫৫ জন বিপক্ষে ভোট দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এককভাবে ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটকে বিজয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি পুনর্গঠন এবং শত্রু দমনে সক্ষম করে তুলবে।

বাজেটের অর্থ সংস্থানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩ শতাংশ হারে কর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৭ বিলিয়ন শেকেল এবং জাতীয় বিমা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৬৩ বিলিয়ন শেকেল করে বরাদ্দ রাখা হলেও বিরোধী দলগুলো এই ব্যয় পরিকল্পনাকে ‘জনগণের পকেট কাটা’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।

বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য এবং বিতর্কিত অংশ হলো কট্টরপন্থী হারেদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ। গত বছরগুলোতে যেখানে এই বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন শেকেল, তা এবার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন শেকেলে উন্নীত করা হয়েছে।

বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় চুরির মহোৎসব’ বলে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “যখন দেশের মানুষ বোমা থেকে বাঁচতে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করছে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই বাজেটকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধের সময় যখন কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন, তখন সরকার নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে জনগণের অর্থ লুটপাট করছে।

এছাড়া পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর জন্য ৪০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ রাখাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বাজেট পাসের ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আপাতত পতনের হাত থেকে রক্ষা পেল। যদি ৩১ মার্চের মধ্যে এই বাজেট পাস না হতো, তবে আইন অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যেত এবং অক্টোবর মাসে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বাজেট পাস হওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন এখন আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীলভাবে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


ইরান-লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইসরায়েলের ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট পাস

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image
ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় বাজেট পাস করেছে ইসরায়েল। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে পার্লামেন্ট নেসেটে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮৫০ দশমিক ৬ বিলিয়ন শেকেল বা ২৭১ বিলিয়ন ডলারের এই যুদ্ধকালীন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।ভোটাভুটির সময় কয়েক দফা ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তায় সাইরেন বেজে উঠলে সংসদ সদস্যরা নিরাপদ বাঙ্কার সদৃশ সুরক্ষিত কক্ষে গিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করেন। ক্ষমতাসীন জোটের ৬২ জন সদস্য বাজেটের পক্ষে এবং ৫৫ জন বিপক্ষে ভোট দেন।প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য এককভাবে ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটকে বিজয় নিশ্চিত করার পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি পুনর্গঠন এবং শত্রু দমনে সক্ষম করে তুলবে।বাজেটের অর্থ সংস্থানের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ছাড়া অন্য সব মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৩ শতাংশ হারে কর্তন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯৭ বিলিয়ন শেকেল এবং জাতীয় বিমা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য ৬৩ বিলিয়ন শেকেল করে বরাদ্দ রাখা হলেও বিরোধী দলগুলো এই ব্যয় পরিকল্পনাকে ‘জনগণের পকেট কাটা’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য এবং বিতর্কিত অংশ হলো কট্টরপন্থী হারেদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ। গত বছরগুলোতে যেখানে এই বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন শেকেল, তা এবার বাড়িয়ে ৫ দশমিক ১৭ বিলিয়ন শেকেলে উন্নীত করা হয়েছে।বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই পদক্ষেপকে ‘রাষ্ট্রীয় চুরির মহোৎসব’ বলে আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “যখন দেশের মানুষ বোমা থেকে বাঁচতে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করছে।”সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই বাজেটকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধের সময় যখন কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন, তখন সরকার নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে জনগণের অর্থ লুটপাট করছে।এছাড়া পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলোর জন্য ৪০০ মিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ রাখাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।বাজেট পাসের ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আপাতত পতনের হাত থেকে রক্ষা পেল। যদি ৩১ মার্চের মধ্যে এই বাজেট পাস না হতো, তবে আইন অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যেত এবং অক্টোবর মাসে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বাজেট পাস হওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন এখন আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীলভাবে যুদ্ধের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে পারবে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা