ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
গণবার্তা

সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন সাবেক সেনাপ্রধান মুবীন, খালেদা জিয়ার উচ্ছেদে ভূমিকার অভিযোগ

সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন সাবেক সেনাপ্রধান মুবীন, খালেদা জিয়ার উচ্ছেদে ভূমিকার অভিযোগ

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। দেশে চলমান আইনি পদক্ষেপের মধ্যে তিনি কৌশলে দেশ ছেড়েছেন। পেছনে তাঁকে সহায়তা করেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ধরপাকড় শুরু হলে দেশ ছাড়েন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের গ্রেপ্তারের পর মুবীনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়। ঢাকাটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মুবীন এখন সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।

জানা গেছে, মুবীন ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (সাবেক চেয়ারম্যান) হাসান মাহমুদ রাজার সম্পর্কে বিয়াই। অবসরের পর তিনি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি ও শিল্প খাতে ইউনাইটেড গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। দেশে আইনি জটিলতা তৈরি হলে মুবীন সেখানেই আশ্রয় নেন।

জ্বালানি খাতের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউনাইটেড পাওয়ারের পক্ষ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন মুবীন।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মুবীন। সে সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছিল এবং তাতে মুবীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।

উচ্ছেদের দিন সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে বাসভবন ছাড়তে বলা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগেই আমাকে ‘এক কাপড়ে’ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”

বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, ঘটনাটি কার্যকর করতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি ছিল। সে সময় সেনাপ্রধান হিসেবে মুবীন সরকারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এ ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা (বরখাস্ত লে. কর্নেল) আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। সেখানে তিনি জেনারেল ম্যানেজার থেকে পরে নির্বাহী পরিচালক হন। এই চাকরির ব্যবস্থা করে দেন মুবীন। গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আফজালের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় বলে অভিযোগ।

সাবেক সেনাপ্রধানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিকে খালেদা জিয়ার উচ্ছেদের ঘটনা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন সাবেক সেনাপ্রধান মুবীন, খালেদা জিয়ার উচ্ছেদে ভূমিকার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। দেশে চলমান আইনি পদক্ষেপের মধ্যে তিনি কৌশলে দেশ ছেড়েছেন। পেছনে তাঁকে সহায়তা করেছে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ধরপাকড় শুরু হলে দেশ ছাড়েন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক পরিচালক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছের গ্রেপ্তারের পর মুবীনের অবস্থান নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়। ঢাকাটাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, মুবীন এখন সিঙ্গাপুরে রয়েছেন।জানা গেছে, মুবীন ইউনাইটেড গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা (সাবেক চেয়ারম্যান) হাসান মাহমুদ রাজার সম্পর্কে বিয়াই। অবসরের পর তিনি গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জ্বালানি ও শিল্প খাতে ইউনাইটেড গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম রয়েছে। দেশে আইনি জটিলতা তৈরি হলে মুবীন সেখানেই আশ্রয় নেন।জ্বালানি খাতের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউনাইটেড পাওয়ারের পক্ষ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন মুবীন।বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল রোডের বাসা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের ঘটনার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন মুবীন। সে সময় তিনি সেনাপ্রধান ছিলেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছিল এবং তাতে মুবীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি বিএনপি নেতাদের।উচ্ছেদের দিন সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে বাসভবন ছাড়তে বলা হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, “বিচারাধীন বিষয় নিষ্পত্তির আগেই আমাকে ‘এক কাপড়ে’ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।”বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, ঘটনাটি কার্যকর করতে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের সম্মতি ছিল। সে সময় সেনাপ্রধান হিসেবে মুবীন সরকারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, এ ঘটনায় বাহিনীর ভেতরে কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না।সাবেক সেনা কর্মকর্তা (বরখাস্ত লে. কর্নেল) আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে ইউনাইটেড গ্রুপে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। সেখানে তিনি জেনারেল ম্যানেজার থেকে পরে নির্বাহী পরিচালক হন। এই চাকরির ব্যবস্থা করে দেন মুবীন। গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আফজালের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয় বলে অভিযোগ।সাবেক সেনাপ্রধানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিকে খালেদা জিয়ার উচ্ছেদের ঘটনা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা