গণবার্তা

দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, তরুণদের স্বনির্ভরতার নতুন পথ

দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, তরুণদের স্বনির্ভরতার নতুন পথ

দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবকেরা। ষষ্ঠ ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার ৮০০ জন, প্রতি জেলা থেকে ৭৫ জন করে।

প্রশিক্ষণ কাঠামো ও লক্ষ্য

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাচে ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত তাদের মোট উপার্জন ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।

প্রতিটি ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে কঠোর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবারের ব্যাচে আবেদন করেছিলেন ৯৭ হাজার ২২৯ জন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, স্মার্টফোনে ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ ও সফট স্কিলের মতো আধুনিক দক্ষতার বিষয়।

প্রশিক্ষণার্থীদের পাশে সরকার

প্রশিক্ষণকালে প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করতে সহায়তা পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, প্রশিক্ষণ শুরুতেই প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনে কাজ পেতেও সহায়তা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও কার্যক্রম তদারকি করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু, তরুণদের স্বনির্ভরতার নতুন পথ

প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধন ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবকেরা। ষষ্ঠ ব্যাচের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৪ হাজার ৮০০ জন, প্রতি জেলা থেকে ৭৫ জন করে।প্রশিক্ষণ কাঠামো ও লক্ষ্যপ্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি ব্যাচে ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। এ পর্যন্ত তাদের মোট উপার্জন ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।প্রতিটি ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে কঠোর পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবারের ব্যাচে আবেদন করেছিলেন ৯৭ হাজার ২২৯ জন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। দৈনিক ৮ ঘণ্টা করে তিন মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, স্মার্টফোনে ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ ও সফট স্কিলের মতো আধুনিক দক্ষতার বিষয়।প্রশিক্ষণার্থীদের পাশে সরকারপ্রশিক্ষণকালে প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হচ্ছে। শেষে সনদপত্র প্রদান করা হবে। প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করতে সহায়তা পাওয়া যায়। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম জানান, কর্মসংস্থান বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে শীর্ষে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম বলেন, প্রশিক্ষণ শুরুতেই প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের আয় ও অগ্রগতির তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনে কাজ পেতেও সহায়তা দেওয়া হবে।জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও কার্যক্রম তদারকি করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণরা স্বনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করছে সরকার।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা