পাবনার চাটমোহর উপজেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ফৈলজানা কাটাজোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মনীষা মণ্ডল (৩১) ওই গ্রামের উপেন সরকারের মেয়ে। প্রায় আট বছর আগে একই গ্রামের সুবল মণ্ডলের ছেলে সবুজ মণ্ডল (৩৫)-এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
স্বজনরা জানান, মনীষা ঢাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সম্প্রতি স্বামী সবুজ মণ্ডল তার বড় ভাইকে নিয়ে তাকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারপর মদ্যপ অবস্থায় তাকে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সে সময় তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে দাবি করেন স্বজনরা।
স্বজনদের ভাষ্য, নির্যাতনের একপর্যায়ে মনীষার পেটে লাথি মারা হলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এমনকি ভিডিও কলে আত্মীয়দের সেই নির্যাতনের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, পরে তাকে গ্রামের বাড়িতে এনে প্রায় পাঁচ দিন একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বুধবার সকালে তাকে পাবনায় নেওয়ার পথে সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনীষার বাবা উপেন সরকারের অভিযোগ, পুরো সময় তাদের কিছু জানানো হয়নি, মেয়েকে দেখার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত সবুজ মণ্ডলের বাবা সুবল মণ্ডল অবশ্য দাবি করেন, দাম্পত্য কলহের জেরে মনীষা তিন মাস আগে ঢাকায় চলে যান। সেখানে কাজ করার সময় কোনো সমস্যায় পড়লে ছেলে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। তিনি দাবি করেন, মনীষা নিজেই গর্ভপাতের জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন এবং এ সংক্রান্ত নথি তাদের কাছে রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ২৭ মার্চ মনীষা চাটমোহরে আসেন। পরে অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সবুজ মণ্ডলকে আটক করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন