ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মালুকু সাগরে ৭ দশমিক ৬ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। এতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে, বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সুনামির ছোট ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি মালুকু সাগরের তলদেশের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। টারনেট দ্বীপের কাছে এই কেন্দ্রস্থলটি অবস্থিত। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি প্রাথমিকভাবে আধা মিটার থেকে ৩ মিটার উচ্চতার সুনামির সম্ভাবনার কথা জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল, যা পরে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসির মানাদো শহরে একটি ভবন আংশিক ধসে পড়ে। ওই ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে ৭০ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আরেক ব্যক্তি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে পায়ে আঘাত পেয়েছেন। ভবনটি স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করত।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প হলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত অন্তত ছয় বছরের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম প্রবল ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত পাঁচটি এলাকা থেকে সুনামির ঢেউয়ের খবর পাওয়া গেছে। বিএমকেজি জানিয়েছে, সবচেয়ে বড় ঢেউটির উচ্চতা ছিল শূন্য দশমিক ৭৫ মিটার, যা উত্তর সুলাওয়েসির উত্তর মিনাহাসা এলাকায় রেকর্ড করা হয়।
মূল ভূমিকম্পের পর অন্তত ৫০টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ২৫০ কিলোমিটারের মধ্যে গত ৫০ বছরে সাত মাত্রার বা তার বেশি শক্তির নয়টি ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু কোনোটিতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ অঞ্চলের ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে টারনেট ও সুলাওয়েসির মতো ঘনবসতিপূর্ণ দ্বীপ থাকলেও আরও হতাহতের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিও সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন