চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নিজের মাকে গলা কেটে হত্যার পর ১০ মাস আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ধরা পড়েছেন ছেলে ও তার স্ত্রী। র্যাব-৭ গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তার স্ত্রী নারগিছ আক্তার (২৫)। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা।
## প্রবাসী ছেলের
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেহেনা বেগম তার বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও পুত্রবধূ নারগিছের সঙ্গে বসবাস করতেন। বড় ছেলে বেলাল মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু কাশেম সেই টাকা মাকে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত।
এর জের ধরে গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে চলে যান। প্রায় ১০ মাস পালিয়ে থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
## র্যাবের অভিযান ও গ্রেপ্তার
নিহত রেহেনার ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর র্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়ায় অভিযান চালিয়ে কাশেম ও নারগিছকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ছেলের হাতে মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন