ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

পাঁচ বছর পর ‘ছদ্মবেশী’ প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং লাইং

পাঁচ বছর পর ‘ছদ্মবেশী’ প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং লাইং

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর অবশেষে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং লাইং। তার অনুগতদের দিয়ে গঠিত নবনির্বাচিত সংসদ তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপকে অনেকেই বেসামরিক শাসনের ‘ছদ্মবেশ’ হিসেবে দেখছেন।

অভ্যুত্থানের সময় এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর। সংবিধান অনুযায়ী তিনি সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন, কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রভাব অটুট রেখেছেন। সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, আর সামরিক-সমর্থিত দল ইউএসডিপি অধিকাংশ বেসামরিক আসন দখল করেছে। ফলে এই নির্বাচনকে অনেকেই পূর্বনির্ধারিত বলে অভিহিত করছেন।

নতুন সরকারেও সামরিক কর্মকর্তাদের আধিপত্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনাপ্রধান হিসেবে মিন অং লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন দায়িত্ব নিচ্ছেন। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক উভয় বিষয়ে প্রভাবশালী ক্ষমতা থাকবে।

অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামরিক বাহিনী বহু এলাকা হারালেও বিমান হামলা ও ‘চার আঘাত’ কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, আর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। সামরিকবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট নতুন সরকারকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংলাপের আহ্বান জানালেও সামরিক নেতৃত্ব তাতে আগ্রহী নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং লাইংয়ের এই ক্ষমতা গ্রহণ সংঘাতের অবসান নয়, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। সূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


পাঁচ বছর পর ‘ছদ্মবেশী’ প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং লাইং

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর অবশেষে প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং লাইং। তার অনুগতদের দিয়ে গঠিত নবনির্বাচিত সংসদ তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপকে অনেকেই বেসামরিক শাসনের ‘ছদ্মবেশ’ হিসেবে দেখছেন।অভ্যুত্থানের সময় এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে তার সময় লেগেছে পাঁচ বছর। সংবিধান অনুযায়ী তিনি সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন, কিন্তু সেনাবাহিনীর প্রভাব অটুট রেখেছেন। সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত, আর সামরিক-সমর্থিত দল ইউএসডিপি অধিকাংশ বেসামরিক আসন দখল করেছে। ফলে এই নির্বাচনকে অনেকেই পূর্বনির্ধারিত বলে অভিহিত করছেন।নতুন সরকারেও সামরিক কর্মকর্তাদের আধিপত্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনাপ্রধান হিসেবে মিন অং লাইংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন দায়িত্ব নিচ্ছেন। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক উভয় বিষয়ে প্রভাবশালী ক্ষমতা থাকবে।অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামরিক বাহিনী বহু এলাকা হারালেও বিমান হামলা ও ‘চার আঘাত’ কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, আর প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। সামরিকবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট নতুন সরকারকে অবৈধ বলে ঘোষণা করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সংলাপের আহ্বান জানালেও সামরিক নেতৃত্ব তাতে আগ্রহী নয়।বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং লাইংয়ের এই ক্ষমতা গ্রহণ সংঘাতের অবসান নয়, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। সূত্র: বিবিসি

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা