ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
ঢাকা    শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
গণবার্তা

আদানি চুক্তি অস্বাভাবিক মূল্যে, সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আদানি চুক্তি অস্বাভাবিক মূল্যে, সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অস্বাভাবিক মূল্যে করেছে। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সংশোধনের বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের যে চুক্তি হয়েছিল, তা পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কমিটি পর্যালোচনা করে। কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন এবং তারা আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশেষজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠানের মতামতও নিয়েছেন।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সরকার এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই নেবে বলে জানান মন্ত্রী।

বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে এবং বহু পুরোনো উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


আদানি চুক্তি অস্বাভাবিক মূল্যে, সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অস্বাভাবিক মূল্যে করেছে। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সংশোধনের বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খন্ড) লিমিটেডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়ের যে চুক্তি হয়েছিল, তা পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় কমিটি পর্যালোচনা করে। কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন এবং তারা আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশেষজ্ঞ আইনি প্রতিষ্ঠানের মতামতও নিয়েছেন।পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। জাতীয় কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্তমান সরকার এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই নেবে বলে জানান মন্ত্রী।বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সারা দেশে ১৩৯টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে এবং বহু পুরোনো উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমবে এবং শিল্প ও আবাসিক খাতে স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা