ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ পাইলটদের খুঁজতে পাঠানো একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারকেও ভূপাতিত করেছে ইরান। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি এ দাবি করেছে। এদিকে রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ইরানে ভূপাতিত হয়েছে এবং পাইলটদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের উত্তরে শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পশ্চিমে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া তেহরানকে পার্শ্ববর্তী শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করতে নির্মীয়মান বি-১ সেতুতে হামলায় অন্তত আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। সেতুটির মধ্যভাগ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কারাজ শহরের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় শিশুদের খেলনাসহ নানা জিনিসপত্র ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলায় ইরানের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে, যা আইআরজিসির অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতাকে পিছিয়ে দেবে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রেখে ইরানকে ‘চূর্ণ’ করার কাজ চলবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলতে পারে। তিনি বলেন, ‘অল্প কিছু সময়ের মধ্যে আমরা সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলতে পারি, তেল নিতে পারি এবং ভাগ্য গড়তে পারি।’
আমিরাতে আজ ২২টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৭টি ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সবগুলো হামলা প্রতিহত করা হলেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজন নেপালি ও পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক। এক নেপালির অবস্থা গুরুতর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান থেকে আমিরাত লক্ষ্য করে মোট ৪৭৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ৮৫টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যা প্রতিহত করেছে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্সে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গ্যাসক্ষেত্রটির সব কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ৩৫তম দিনে এসব ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও চরমে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন