ইরানের গভীর পার্বত্য এলাকা থেকে গুরুতর আহত এক মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুকে দুঃসাহসিক অভিযানে উদ্ধার করার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় বিস্তারিত জানাতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের গভীর পার্বত্য অঞ্চল থেকে ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনীও তাকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছিল এবং খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
উদ্ধার হওয়া ক্রুকে ‘অত্যন্ত সম্মানিত এক কর্নেল’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি গুরুতর আহত ছিলেন। তবুও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তাকে নিরাপদে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, মানুষ ও সরঞ্জামের উচ্চ ঝুঁকির কারণে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান খুব কমই পরিচালিত হয়। প্রথম অভিযানের পর দ্বিতীয় দফায় দিনের আলোতে পাইলটকে উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত বিরল ঘটনা।
অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীর সদস্যরা সাহস ও দক্ষতার অসাধারণ নজির দেখিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সূত্র জানায়, প্রায় ৭ হাজার ফুট ওপর থেকে ড্রোন ও স্যাটেলাইট নজরদারির মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ে লুকানো অফিসারের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করে সিআইএ। পরে ট্রাম্প উদ্ধারের আদেশ দেন। আমেরিকান স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স এবং এয়ারফোর্সের স্পেশাল ওয়ারফেয়ার টিম অভিযান চালায়। সশস্ত্র হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান এবং ড্রোনের সহায়তায় এই অভিযান সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ ইরানে একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরানের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একজন পাইলটকে উদ্ধার করলেও দ্বিতীয় ক্রু নিখোঁজ ছিলেন। ইরান দ্রুত ওই এলাকায় তল্লাশি জোরদার করে এবং সাধারণ জনগণকে নিখোঁজ মার্কিন সেনা খুঁজে বের করতে পুরস্কার ঘোষণা করে।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অধ্যাপক অ্যামিন সাইকাল আল জাজিরাকে বলেন, ‘এটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় পরীক্ষা ছিল। তারা শত্রুপক্ষের এলাকায় কোনো সেনাকে ফেলে রাখতে চায় না। এই সফল উদ্ধার অভিযান ট্রাম্পকে তার কৌশল বাস্তবায়নে আরও স্বাধীনতা দেবে।’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্রুস বেকটোল দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার মূলত উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর। তাঁর মতে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বড় অংশ উত্তর কোরিয়া থেকে ইরান সংগ্রহ করেছে।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, গত শুক্রবার ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মার্কিন-ব্রিটিশ যৌথ ঘাঁটিতে ইরান দুটি ‘মুসুদান’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, অথচ দিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে।
স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ময়দানে একেক পক্ষ অন্য পক্ষকে চাপে রাখতে এবং আন্তর্জাতিক জনমত নিজেদের পক্ষে নিতে প্রায়ই এ ধরনের পাল্টাপাল্টি তথ্যের লড়াই চালিয়ে থাকে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক অভিযানের বৈধতা খুঁজতেই ইরানকে এক বিশাল হুমকি হিসেবে চিত্রায়িত করার এই প্রচেষ্টা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের পুরনো কৌশল।
এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার দুপুর ১টায় (স্থানীয় সময়) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন