সোমবার সকাল থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি গ্যাস স্টেশন। হামলার পর তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড ধোঁয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন ও মসজিদও আক্রান্ত হয়েছে। তেহরানের ৯ নম্বর জেলার মেয়র জানিয়েছেন, গ্যাস স্টেশনে হামলার পর শরিফ এলাকার গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু তেহরান নয়, ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে। বোরোজের্দ, শিরাজ ও কওম শহরেও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে চরম হুমকি দিয়েছেন। রোববার ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে মঙ্গলবার ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
এর আগে তিনি ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তি সম্ভব। তবে ইরান বারবার জোর দিয়ে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ‘নতুন শৃঙ্খলা’ বা ‘নিউ অর্ডার’ বাস্তবায়নের জন্য তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য। ইরান ইতিমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে শুধু হরমুজ নয়, বাব আল মান্দেবসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক নৌপথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ট্রাম্পের হুমকিকে ‘যুদ্ধাপরাধে উসকানি’ বলে নিন্দা করেছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেলের দাম ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে।
ইরানের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হুতিদের এই অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বাব আল মান্দেব প্রণালিতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
সোমবার ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র থাকবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন