ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের উৎস দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের দুটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির ৮৫ শতাংশের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইডিএফ আরও জানায়, আসালুয়েহ অঞ্চলের একটি স্থাপনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
ইরানের জনগণের জন্য ‘জরুরি সতর্কবার্তা’ জারি করেছে আইডিএফ। এতে দেশটির নাগরিকদের আগামী ১২ ঘণ্টা ট্রেনে ভ্রমণ না করা এবং রেললাইন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইডিএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে ইরানের সময় রাত ৯টা পর্যন্ত দেশজুড়ে ট্রেন ব্যবহার ও ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ট্রেনে ও রেললাইনের আশেপাশে আপনার উপস্থিতি আপনার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
এই সতর্কবার্তাটি আইডিএফ নিজেদের ফার্সি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলের এই সতর্কবার্তাটি এমন সময় এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সময় দিয়েছেন। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান তা না মানলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো (যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র) ধ্বংস করে দেবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ইরানি দেশকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও তা করতে থাকব।’
২৪ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সচিব আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। আন্তর্জাতিক মহল শঙ্কা প্রকাশ করছে যে, যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন