গণবার্তা

দুই-তৃতীয়াংশ সরকার কখনো জনগণের মঙ্গল বয়ে আনেনি: সুজন সম্পাদক

দুই-তৃতীয়াংশ সরকার কখনো জনগণের মঙ্গল বয়ে আনেনি: সুজন সম্পাদক

অতীতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ভিত্তিতে গঠিত সরকার কখনো নিজ দল ও জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি, বরং তারা ‘মনস্টার’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের কল্যাণ বয়ে আনেনি, জনগণের কল্যাণ বয়ে আনেনি, তারা মনস্টার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

ড. বদিউল আলম বলেন, বিএনপি এই গণভোট মানছে না এবং অধ্যাদেশগুলো নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করি এটি আবার সেই দুই-তৃতীয়াংশের অভিশাপ হবে না। আশা করি আমাদের সরকারি দল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সংসদ সদস্যরা তাদের বিবেক-বুদ্ধি খরচ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে তারা যেসব সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন—গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যাবে।’

অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিএনপি টালবাহানা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছে না, তারা শপথ নেয়নি এবং এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তারা টালবাহানা করছে; অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করছে—এর কোনো যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাই না।’

গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন: আসিফ সাহান

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ সাহান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর পদ্ধতি নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র। কিন্তু গণতন্ত্র টিকে থাকার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। সর্বোপরি সরকার যেন নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছা ব্যবহার না করতে পারে, সেটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সংসদে দ্বি-কক্ষের কথা বলা হচ্ছে। এই ধারণা হঠাৎ করে আসেনি। অতীতে সংবিধানকে যথেচ্ছা পরিবর্তন করে যে সঙ্কট তৈরি করা হয়েছিল, সেটা আটকানোর জন্য জুলাই সনদ।

আসিফ সাহান আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের কাছে ওয়াদা করেছে। সেই ওয়াদা রক্ষা করা এবং তা বাস্তবায়ন করা বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব।

‘সরকারি দল পুরোনো পথেই হাঁটছে’: সাবেক বিচারক

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক এম এ মতিন বলেন, ‘গণভোটের জনরায় সত্ত্বেও সরকারি দল কেন শপথ নিল না, তারা কেন এটা নিয়ে গড়িমসি করছে? আর এই যে চারটা অধ্যাদেশ তারা রদ করছে, গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করবে না, ১৫টি পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে উত্থাপন করবে—তার মানে হচ্ছে, তারা যেন পুরোনো পথেই হাঁটছে এবং তার আলামত দেখা যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, ব্যারিস্টার ইমরান আহমদ সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই প্রমুখ। বক্তারা গণতন্ত্র ও সুশাসন রক্ষায় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


দুই-তৃতীয়াংশ সরকার কখনো জনগণের মঙ্গল বয়ে আনেনি: সুজন সম্পাদক

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
অতীতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ভিত্তিতে গঠিত সরকার কখনো নিজ দল ও জনগণের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনেনি, বরং তারা ‘মনস্টার’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের কল্যাণ বয়ে আনেনি, জনগণের কল্যাণ বয়ে আনেনি, তারা মনস্টার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিএনপির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাড. বদিউল আলম বলেন, বিএনপি এই গণভোট মানছে না এবং অধ্যাদেশগুলো নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আশা করি এটি আবার সেই দুই-তৃতীয়াংশের অভিশাপ হবে না। আশা করি আমাদের সরকারি দল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সংসদ সদস্যরা তাদের বিবেক-বুদ্ধি খরচ করবেন।’তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে তারা যেসব সঠিক সিদ্ধান্ত যেমন—গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে যাবে।’অধ্যাদেশগুলো নিয়ে বিএনপি টালবাহানা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করছে না, তারা শপথ নেয়নি এবং এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে তারা টালবাহানা করছে; অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করছে—এর কোনো যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাই না।’গণতন্ত্র রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন: আসিফ সাহানরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ সাহান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর পদ্ধতি নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র। কিন্তু গণতন্ত্র টিকে থাকার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। সর্বোপরি সরকার যেন নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছা ব্যবহার না করতে পারে, সেটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিশ্চিত করবে।তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সংসদে দ্বি-কক্ষের কথা বলা হচ্ছে। এই ধারণা হঠাৎ করে আসেনি। অতীতে সংবিধানকে যথেচ্ছা পরিবর্তন করে যে সঙ্কট তৈরি করা হয়েছিল, সেটা আটকানোর জন্য জুলাই সনদ।আসিফ সাহান আরও বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জনগণের কাছে ওয়াদা করেছে। সেই ওয়াদা রক্ষা করা এবং তা বাস্তবায়ন করা বিএনপির নৈতিক দায়িত্ব।‘সরকারি দল পুরোনো পথেই হাঁটছে’: সাবেক বিচারকসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক এম এ মতিন বলেন, ‘গণভোটের জনরায় সত্ত্বেও সরকারি দল কেন শপথ নিল না, তারা কেন এটা নিয়ে গড়িমসি করছে? আর এই যে চারটা অধ্যাদেশ তারা রদ করছে, গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করবে না, ১৫টি পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে উত্থাপন করবে—তার মানে হচ্ছে, তারা যেন পুরোনো পথেই হাঁটছে এবং তার আলামত দেখা যাচ্ছে।’অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার, ব্যারিস্টার ইমরান আহমদ সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হাই প্রমুখ। বক্তারা গণতন্ত্র ও সুশাসন রক্ষায় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা