ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ঢাকা    বুধবার, ২০ মে ২০২৬
গণবার্তা

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. নাছের ঠাকুরকে (৪০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নিহত স্বপ্না বেগমের (২৫) বাড়ি একই উপজেলার দাড়িরপাড় গ্রামে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মো. নাছের ঠাকুর ও স্বপ্না বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এক লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ তিনি স্বপ্নাকে মারধর করেন এবং সন্ধ্যায় নিজের বসতঘরে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় স্বপ্নার বড় ভাই মো. আলী শেখ (৩৯) মধুখালী থানায় নাছের ঠাকুরসহ তার চার ভাইকে সহযোগী আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মধুখালী থানার এসআই আব্দুর রব। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিছুটা দেরি হলেও প্রমাণ হলো, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। এতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলো।’

প্রসঙ্গত, এক লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় দিলেন। যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এখনও দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এই রায় যৌতুকবিরোধী আন্দোলন ও আইনের শাসনকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
ফরিদপুরের মধুখালীতে এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী মো. নাছের ঠাকুরকে (৪০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।নিহত স্বপ্না বেগমের (২৫) বাড়ি একই উপজেলার দাড়িরপাড় গ্রামে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মো. নাছের ঠাকুর ও স্বপ্না বেগমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাছের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর করতেন। এক লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২১ মার্চ তিনি স্বপ্নাকে মারধর করেন এবং সন্ধ্যায় নিজের বসতঘরে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।এ ঘটনায় স্বপ্নার বড় ভাই মো. আলী শেখ (৩৯) মধুখালী থানায় নাছের ঠাকুরসহ তার চার ভাইকে সহযোগী আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মধুখালী থানার এসআই আব্দুর রব। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পর ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি। কিছুটা দেরি হলেও প্রমাণ হলো, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। এতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হলো।’প্রসঙ্গত, এক লাখ টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই রায় দিলেন। যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা এখনও দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এই রায় যৌতুকবিরোধী আন্দোলন ও আইনের শাসনকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করছেন আইনজীবীরা।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা