ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
ঢাকা    সোমবার, ১১ মে ২০২৬
গণবার্তা

জন কেরির দাবি: ‘চার দফা প্রস্তাব’ দিয়ে ওবামা, বাইডেন ও বুশকে রাজি করাতে পারেননি; শুধু ট্রাম্প সম্মত হন

নেতানিয়াহু ইরানে হামলার জন্য একাধিক মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়েছিলেন

নেতানিয়াহু ইরানে হামলার জন্য একাধিক মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়েছিলেন

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রশাসনের ওপর ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টরা এতে সম্মত হননি। শুক্রবার ‘দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেরি এই তথ্য জানান।

কেরি বলেন, তিনি নিজে এমন একাধিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানান। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। এই প্রস্তাব সরাসরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছেও উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জো বাইডেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ—কেউই এতে সম্মতি দেননি। তবে কেরির দাবি, একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন।

চার দফা প্রস্তাব

কেরি আরও জানান, নেতানিয়াহু ইরানে হামলার পক্ষে একটি বিস্তারিত ‘চার দফা প্রস্তাব’ দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়—এ ধরনের হামলা ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সহায়ক হতে পারে। কেরি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল এবং আলোচনাগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যায়।

যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব ও মিসরের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে জানানো হয়েছে। ৪০ দিনের সংঘাতের পর হওয়া এই সমঝোতার অংশ হিসেবে দুই দেশ স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

কেরির এই মন্তব্য নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন করে আলোচনা তৈরি করলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

গণবার্তা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


নেতানিয়াহু ইরানে হামলার জন্য একাধিক মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়েছিলেন

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রশাসনের ওপর ইরানে সামরিক হামলা চালানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করেছিলেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টরা এতে সম্মত হননি। শুক্রবার ‘দ্য ব্রিফিং উইথ জেন পসাকি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেরি এই তথ্য জানান।কেরি বলেন, তিনি নিজে এমন একাধিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে নেতানিয়াহু সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলার আহ্বান জানান। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ইরানে হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। এই প্রস্তাব সরাসরি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছেও উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জো বাইডেন এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ—কেউই এতে সম্মতি দেননি। তবে কেরির দাবি, একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন।চার দফা প্রস্তাবকেরি আরও জানান, নেতানিয়াহু ইরানে হামলার পক্ষে একটি বিস্তারিত ‘চার দফা প্রস্তাব’ দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়—এ ধরনের হামলা ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করতে, সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে এবং সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে সহায়ক হতে পারে। কেরি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল এবং আলোচনাগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যায়।যুদ্ধবিরতি ও আলোচনাতুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালায়, যেখানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়।পরবর্তীতে পাকিস্তান, তুরস্ক, চীন, সৌদি আরব ও মিসরের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে জানানো হয়েছে। ৪০ দিনের সংঘাতের পর হওয়া এই সমঝোতার অংশ হিসেবে দুই দেশ স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।কেরির এই মন্তব্য নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন করে আলোচনা তৈরি করলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

গণবার্তা

সম্পাদকঃ নূর মোহাম্মদ
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা