ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী মাদ্রাসাকে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের বিশিষ্ট ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামিয়া সিরাজ-উল-উলুম মাদ্রাসাটি দক্ষিণ কাশ্মীরের অন্যতম বৃহত্তম এবং এটি জম্মু ও কাশ্মীর বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন দ্বারা স্বীকৃত।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কাশ্মীরের বিভাগীয় কমিশনার আনশুল গার্গ পুলিশের একটি নথির ভিত্তিতে এই আদেশ জারি করেছেন। নথিতে বলা হয়েছে, মাদ্রাসাটির সঙ্গে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) ধারাবাহিক ও গোপন যোগসূত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামিয়া সিরাজ-উল-উলুমের ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষকবৃন্দ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্ত। এতে ভূমি ব্যবহার এবং আর্থিক স্বচ্ছতা সম্পর্কিত অন্যান্য অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি দেশটির বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে নেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির বহুল সমালোচিত একটি আইন, যা কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাউকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা দেয়। তবে ওই মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফি লোন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস লোনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তিনি বলেন, আমরা একটি আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠান এবং নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এই আদেশটি এখানকার অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ওই অঞ্চলের সাংসদ আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইউএপিএ-র অধীনে জামিয়া সিরাজ-উল-উলুমকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা কাশ্মীরের নাগরিক জীবনকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলার সর্বশেষ পদক্ষেপ। তিনি আরও লিখেন, ট্রাস্ট, মসজিদ, গ্রন্থাগার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত মাদ্রাসা—কাশ্মীরি সমাজকে একত্রিত করে রাখা প্রতিটি সামাজিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে শ্বাসরুদ্ধ করা হচ্ছে। সৈয়দ রুহুল্লাহ জানান, ওই বিদ্যালয়ে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে এবং এটি এমন সব পরিবার থেকে চিকিৎসক, পণ্ডিত ও পেশাজীবী তৈরি করেছে, যাদের বেসরকারি শিক্ষা গ্রহণের সামর্থ্য কখনোই ছিল না।
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই সিদ্ধান্তকে সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত অংশের প্রতি একটি চরম অবিচার বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশবিরোধী কার্যকলাপের কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই এই জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করা একটি গভীর বৈষম্যমূলক আচরণ। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলের নেতারা এই পদক্ষেপকে নয়াদিল্লির চলমান বাড়াবাড়ির প্রচারণার অংশ হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন