বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র আমন্ত্রণে ৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই সফর চলবে ৭ মে পর্যন্ত। সফরের দ্বিতীয় দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সহায়তা চায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে।
বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ জানায়, তারা ‘এক চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ঢাকার বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ২৭৫৮ কর্তৃত্বপূর্ণ এবং তাইওয়ান চীনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ পৃথক তাইওয়ান গঠনের সব ধরনের চেষ্টার বিরোধিতা করে এবং চীনের জাতীয় পুনর্মিলনের পক্ষে সমর্থন জানায়।
অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। চীন বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের পথকে সম্মান জানানোর কথাও বলে।
উন্নয়ন সহায়তা প্রসঙ্গে দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিল্পায়ন এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে চীনের ভূমিকা কামনা করেন। জবাবে চীন জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে তারা যথাসাধ্য সহায়তা করবে। চীন বলেছে, তারা ঢাকা ও নেপিদোর মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে মধ্যস্থতা করে যাবে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে গাজাসহ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন দুই মন্ত্রী। তারা অসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
সফর শেষে ড. খলিলুর রহমান চীনের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-কে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন