প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
যেভাবে ‘ঘরের শত্রুর’ সহায়তায় মাদুরোকে বন্দি করল সিআইএ, া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে এক নাটকীয় অভিযানের মাধ্যমে আটক করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। দেশটির সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি ‘ফুয়ের্তে তিউনা’ থেকে তাদের যেভাবে বন্দি করা হয়েছে, তাতে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের একটি বড় অংশ প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।অন্দরমহলে ছিল সিআইএ-এর চোখমার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করেছিল মাদুরোর অতি ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির ওপর। ওই ব্যক্তি সিআইএ-এর কাছে মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিন, খাদ্যাভ্যাস এবং এমনকি তার পোষা প্রাণীর তথ্যও পাচার করছিলেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই মার্কিন বাহিনী জানত কখন মাদুরো সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত থাকেন।কেনটাকিতে নকল দুর্গে মহড়াঅভিযানটি এতটাই সংবেদনশীল ছিল যে, মার্কিন এলিট ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের এক গোপন স্থানে মাদুরোর বাসভবনের হুবহু একটি নকল কাঠামো তৈরি করে মহড়া চালিয়েছিল। সেখানে কমান্ডোরা দ্রুতগতিতে ইস্পাতের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের কৌশল আয়ত্ত করেন।সাইবার হামলা ও আকাশপথে আধিপত্যগত ২ জানুয়ারি রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চূড়ান্ত অভিযানের নির্দেশ দেন। শুরুতেই ভয়াবহ সাইবার হামলায় কারাকাসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ১৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান, এফ-৩৫, ড্রোন এবং ‘নাইট স্টকার্স’ হেলিকপ্টার এই অভিযানে অংশ নেয়। ওসামা বিন লাদেন নিধন অভিযানের মতোই এখানে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক জ্যামিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া হয়েছিল।৩ মিনিটে অপারেশন ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতরাত ২টা ১ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো মাদুরোর কম্পাউন্ডে পৌঁছায়। কমান্ডোরা ব্লোটর্চ ব্যবহার করে মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যে মাদুরোর শোবার ঘরে পৌঁছে যান। ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, মার্কিন কমান্ডো বাহিনীর এই অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তা দলের একটি বড় অংশ প্রাণ হারিয়েছে। অভিযানে সামরিক ও বেসামরিকসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।বর্তমান অবস্থান ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতিআটকের পর মাদুরো দম্পতিকে গুয়ানতানামো বে নৌঘাঁটি হয়ে বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন সামরিক বিমানবন্দরে রাখা হয়েছে। এদিকে, দেশটিতে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাকে সেনাবাহিনীও সমর্থন জানিয়েছে।প্রতিরক্ষামন্ত্রী পাদ্রিনো জানান, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী সক্রিয় করা হয়েছে এবং সীমান্ত ও কৌশলগত এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। তিনি এই অভিযানকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ বলে দাবি করলেও জনগণের প্রতি স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।দুই স্তরবিশিষ্ট পরিকল্পনাওয়াশিংটন পোস্টের মতে, জুলাই মাস থেকেই এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হচ্ছিল।ফেজ-১: আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযানে হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা।ফেজ-২: সরাসরি মাদুরোকে বন্দি করা এবং কৌশলগত তেলক্ষেত্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোকে ‘নার্কো-টেররিজম’ সংক্রান্ত অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা