প্রিন্ট এর তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যেই ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র, নিহত ৬৫া
অনলাইন ডেস্ক ||
ইরানে নতুন করে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনী দমন-পীড়ন আরও জোরদার করতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা।গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি আন্দোলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন।বৃহস্পতিবার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় জমায়েতের পর শুক্রবার রাতে নতুন করে তেহরানসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবির সত্যতা নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।এদিকে সরকার আরোপিত ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, শনিবার ভোর পর্যন্ত টানা ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের তথ্য বাইরে পৌঁছাতে না পারার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।ইরান হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহরের ৫১২টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন ৫০ জন বিক্ষোভকারী, ১৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং একজন সরকারপন্থি বেসামরিক ব্যক্তি।এছাড়া এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ এবং আটক করা হয়েছে অন্তত ২ হাজার ৩১১ জনকে। আহতদের বেশিরভাগের শরীরে প্লাস্টিক বুলেট ও পেলেট গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার বাড়িয়েছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য তারা বিশ্লেষণ করছে।নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারনেট বন্ধের আড়ালে গণহত্যার প্রস্তুতি নিতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি জানান, তেহরানের একটি হাসপাতালে একদিনেই শত শত মানুষ চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস সংগঠন বলেছে, দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।তেহরানের সাদাতআবাদ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ির হর্ন বাজিয়ে আন্দোলনে সংহতি জানানো হয়।তেহরানের পাশাপাশি মাশহাদ, তাবরিজ, কুম ও হামেদান শহরেও বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। হামেদানে শাহ আমলের সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত ইরানি পতাকা হাতে একজনকে আগুনের পাশে নাচতে দেখা যায়।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিক্ষোভকারীদের প্রশংসা করে আরও সংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক আন্দোলনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শুধু রাস্তায় নামা নয়, এখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। খামেনি তার ভাষণে আন্দোলনকারীদের ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করেন।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়েছে।ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা দেশের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে।জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, ইরান কার্যত একটি যুদ্ধে রয়েছে এবং এসব ঘটনা বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এবং জনগণ এমন সব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও কল্পনা করা যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা