প্রিন্ট এর তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপকে শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের, উত্তাল গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কে বিক্ষোভা
অনলাইন ডেস্ক ||
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করে ইউরোপের একাধিক দেশকে আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ ঘোষণার পর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে।শনিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্কসহ নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৬ থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং গ্রিনল্যান্ডের “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয়” সংক্রান্ত কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।ট্রাম্প বলেন, এসব দেশ “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলা” খেলছে, যা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য টেকসই নয়। পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে ডেনমার্ক ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।এই ঘোষণাকে ডেনমার্ক “অপ্রত্যাশিত” বলে আখ্যা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “সম্পূর্ণ ভুল” মন্তব্য করে বলেন, এমন হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, শুল্কের হুমকি এই প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যৌথভাবে এই হুমকির জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা এক বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনা করতে রবিবার ব্রাসেলসে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে শনিবার বৃষ্টির মধ্যেই হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও। গ্রিনল্যান্ডের পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন এবং ঐতিহ্যবাহী ইনুইট গান পরিবেশন করেন। অনেকের মাথায় ছিল “Make America Go Away” লেখা ক্যাপ—ট্রাম্পের “Make America Great Again” স্লোগানের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নার্স পারনিক লারসেন স্ট্রুম বলেন, “আমরা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চিন্তা চাই না। এটি আমাদের জন্য ভীতিকর।” বিক্ষোভ সংগঠক আভিজাজা রোসিং-ওলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান জানাতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানোই তাদের উদ্দেশ্য।কোপেনহেগেনসহ ডেনমার্কের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া এক বিক্ষোভকারী বলেন, “মিত্র রাষ্ট্রের কাছ থেকেও হুমকি আসতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।”ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং সেখানে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বাড়ছে—যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া গ্রিনল্যান্ড রক্ষার সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর শেষ করছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনসের নেতৃত্বাধীন এই দল জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ নাগরিকের সমর্থন পায় না। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করছে; মাত্র ৬ শতাংশ এ ধারণার পক্ষে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা