প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ||
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন তারেক রহমান। তাঁকে ঘিরে একটি বিস্তৃত বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী Time। প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে “Bangladesh’s Prodigal Son”—বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনকারী উত্তরাধিকারী হিসেবে।টাইম লিখেছে, কণ্ঠস্বর ভাঙা ও শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় ফেরার ব্যাপারে তারেক রহমান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর মৃত্যু তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে নাড়া দিলেও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তিনি অনড় রয়েছেন।টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন,
“দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশের মানুষ আমাকে যে আস্থা দিয়েছে, সেটাই রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কেবল পারিবারিক পরিচয়ের কারণে রাজনীতিতে নেই; বরং দলের তৃণমূল সমর্থকরাই তাঁকে নেতৃত্বে এনেছে। দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে টাইম জানায়, তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী–র সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ।তবে প্রতিবেদনে আশার পাশাপাশি উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। অতীতে বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ—বিশেষ করে আলোচিত বৈদ্যুতিক খাম্বা বিতর্ক—এখনো তারেক রহমানকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে টাইম।সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, আগের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তাঁর ভাষায়,
“কেউ অপরাধ করলে বিচার হবে। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যায় না।”প্রায় ৩ হাজার ৩০০ শব্দের এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও বিশ্লেষণ করেছে টাইম। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং ক্রমবর্ধমান যুব বেকারত্বকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না—যা তারেক রহমানের নেতৃত্বের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।নীতিগতভাবে তারেক রহমানকে একজন টেকনোক্র্যাটিক রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করেছে টাইম। তিনি খাল খনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় নতুন সবুজ অঞ্চল তৈরি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে অংশীদারত্বের মতো পরিকল্পনার কথা বলেছেন।তারেক রহমানের মতে,
“এই পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনগণ আমাকে সমর্থন করবে।”প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শাসনকে স্বৈরাচারী হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন–পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে যাবে—সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।তারেক রহমান নিজেকে তুলনামূলকভাবে নরম ও শ্রোতা-মনস্ক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তাঁর ভাষায়, রাস্তায় মানুষ যেন নিরাপদ থাকে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে—এটাই তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল অন্যকেও নিষিদ্ধ করা হতে পারে।টাইম ম্যাগাজিনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে আশার সঞ্চার করেছে। তবে অতীতের ভার, দলীয় শৃঙ্খলা এবং কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই তিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে সেই আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যেতে পারে।প্রতিবেদনের শেষাংশে তারেক রহমান জনপ্রিয় স্পাইডার–ম্যান সিনেমার একটি সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেন,
“বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আমি মনেপ্রাণে এটি বিশ্বাস করি।”
সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা