প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডব্লিউএইচওা
অনলাইন ডেস্ক ||
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন নারী মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয়, আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক পর্যায়ে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম।
ডব্লিউএইচওর বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই নারী ২৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন। তার গলার সোয়াব ও রক্তের নমুনা পরীক্ষায় পরদিন নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি ডব্লিউএইচওকে জানানো হয়।
আক্রান্ত নারীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। ২১ জানুয়ারি তার শরীরে প্রথমে জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়। রোগীর সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পরীক্ষা করা হলেও নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।
২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে মোট ৩৪৮টি নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই কাঁচা খেজুরের রস পান করার ইতিহাস পাওয়া গেছে। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পানের মৌসুমের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এক সপ্তাহ আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই।
ডব্লিউএইচওর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাসের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সব স্তরেই কম। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি—৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস নিপাহকে ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে রোগ নজরদারি ও পরীক্ষার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা