প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কৃষ্ণ নন্দীর আসনে ৮ হিন্দু প্রার্থী, জমেছে লড়াইা
অনলাইন ডেস্ক ||
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি একাধিক সনাতন প্রার্থীর অংশগ্রহণে আসনটি এবার জাতীয় রাজনীতিতেও বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা–১ আসনটি জাতীয় সংসদের ৯৯ নম্বর আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ২৮৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৯টি।এবারের নির্বাচনে এখানে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৮ জনই সনাতন (সংখ্যালঘু) সম্প্রদায়ের প্রার্থী, যা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর আমীর এজাজ খান (ধানের শীষ) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর কৃষ্ণ নন্দী (দাঁড়িপাল্লা)। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণঅধিকার পরিষদসহ একাধিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান এর আগে তিনবার এই আসন থেকে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এবার তিনি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। প্রচারণায় তিনি ভোটারদের পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন।অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা কৃষ্ণ নন্দী–কে মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শুরুতে জামায়াত এই আসনে অন্য প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়। তিনি প্রচারণায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।ভোটার কাঠামোও এই আসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দাকোপ উপজেলায় হিন্দুধর্মাবলম্বীর হার ৫৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর বটিয়াঘাটায় ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ফলে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।এ ছাড়া সিপিবি প্রার্থী কিশোর কুমার রায় স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় কিছু এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।অতীত নির্বাচনের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আওয়ামী লীগ নেতারাই এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন।স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, এবার ভোটের ফল নির্ধারণে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।দীর্ঘদিন একপেশে হিসেবে পরিচিত খুলনা–১ আসন এবার পরিণত হয়েছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আলোচিত আসনে। বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে ঘিরে নির্বাচনী মাঠে আলোচনার মাত্রা আরও বেড়েছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা