প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করলো সরকার, ১৪ মার্চ উদ্বোধনা
গণবার্তা ডেস্ক : ||
মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত ধর্মগুরুদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন ।রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ ।সরকার ঘোষিত সম্মানী কাঠামো অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ৩৯৬টি গির্জার ধর্মগুরুরা এই সুবিধা পাবেন ।প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন ।প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এ অর্থ থেকে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন ।প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন । প্রতিটি চার্চের জন্যও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যেখানে পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন ।শুধু মাসিক সম্মানীই নয়, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ১ হাজার টাকা করে বছরে দুইবার বোনাস দেওয়া হবে ।অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট উপাসনালয়ের কর্মরতদের জন্য ২ হাজার টাকা করে বোনাস নির্ধারণ করা হয়েছ।প্রথম পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা বেছে নেওয়া হয়েছে ।তবে যেসব মসজিদ সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে ।উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই সম্মানী কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে । আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগী ব্যক্তিদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। টাকা হাতে হাতে নয়, বরং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরাসরি প্রেরণ করা হবে ।সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ লাগবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ।ইসমাইল জাবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই একে একে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা