প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বোমা হামলা, তেল স্থাপনা অক্ষত রাখার দাবি ট্রাম্পেরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গণবার্তা: ||
ইরানের খারগ দ্বীপে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে চালানো এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দ্বীপটিতে অবস্থিত তেলের স্থাপনাগুলোকে এই হামলার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, খারগ দ্বীপের 'সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু' ধ্বংস করা হয়েছে। এই দ্বীপকে তিনি ইরানের 'রাজমুকুট' হিসেবে অভিহিত করেছেন।পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তে ইরানি শহর বুশেহরের কাছাকাছি অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি ইরানের তেল অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা এই দ্বীপে অল্প কিছু মানুষ বসবাস করে।ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই খারগ দ্বীপ দিয়ে সম্পন্ন হয়। এখান থেকেই অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কারগুলোতে লোড করা হয়, যা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি হয়ে চীনের মতো দূরবর্তী বাজারগুলোতে পৌঁছে যায়। চীন ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।বিবিসির মাইকি কেরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটিকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়। খারগ দ্বীপে হামলা হওয়া মানে সরাসরি ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ডে আঘাত করা।এই হামলার প্রেক্ষাপটে দুজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই মেরিন ইউনিটটি সমুদ্রপথে আক্রমণ চালাতে সক্ষম এবং সাধারণত এটি কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে থাকা সর্বোচ্চ প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নাবিক নিয়ে গঠিত হয়।এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হামলার ঘোষণা বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করা হয়নি। তেল স্থাপনা থাকায় ইরানের কাছে খারগ দ্বীপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, সিবিএস নিউজ
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা