প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬
লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে নৌকায় মৃত্যু সুনামগঞ্জের ৫ যুবকেরা
স্পোর্টস ডেস্ক ||
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে পথ হারিয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর এই ঘটনা জানাজানি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। তারা হলেন— দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৩)। মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।আজ বিকেলে এই খবর জানার পর তারাপাশা ও রনারচর গ্রামে শোকের মাতম বইছে। বিষয়টি গ্রিস থেকে জানিয়েছেন ওই যুবকদের সঙ্গে থাকা দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের রুহান মিয়া। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবক জানান, ২২ জন অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে সাগর পথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদেরকে বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ-সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুইদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সকলকে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।শুক্রবার ভোরে গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপের কাছে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। পরে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে গ্রিসের কোস্টগার্ড জানায়, এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বেঁচে ফিরেছেন ২১ বাংলাদেশি, চার দক্ষিণ সুদানি ও একজন চাদের নাগরিক।নিহত সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকে ১২ লাখ টাকায় চুক্তিতে গত মাসে বাড়ি থেকে রওনা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে সৌদি আরব থেকে মিশর, মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয়। লিবিয়া নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। গত কয়েক দিন তাদের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ বিকেলে চাচাতো ভাই রুহান জানিয়েছে, সাহানসহ দিরাইয়ের পাঁচজন মারা গেছে।দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার পর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কথা বলার চেষ্টা চলছে।দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন দিরাইয়ের চার যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টকর ও মর্মান্তিক। যুবকদের মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা