প্রিন্ট এর তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬
সংক্রামক রোগ হাম: লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের পথা
স্বাস্থ্য ডেস্ক ||
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা উচ্চ জ্বর, কাশি, লাল চোখ ও সারা শরীরে ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। সঠিক প্রতিরোধ হলো টিকা—এমএমআর (Measles, Mumps, Rubella) ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ শিশুদের হাম থেকে কার্যকরভাবে রক্ষা করে।হামের লক্ষণ
প্রথম ৭–১৪ দিনের মধ্যে সংক্রমণের পর লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রাথমিক লক্ষণ: উচ্চ জ্বর (১০৪°F পর্যন্ত), কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, লাল ও পানি ঝরা চোখ।
২–৩ দিন পর: মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (Koplik spots)।
৩–৫ দিন পর: লাল ফুসকুড়ি মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ির সময় জ্বর আরও বেড়ে যেতে পারে।
জটিলতা: নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কান সংক্রমণ, মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস), এমনকি মৃত্যু।
প্রতিকার ও চিকিৎসা
হামের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই।
চিকিৎসা মূলত লক্ষণ উপশম ও জটিলতা প্রতিরোধে সহায়ক।
বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ জরুরি।
জ্বর ও ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে (শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে)।
শিশুদের ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হলে জটিলতা ও মৃত্যুহার কমে।
নিউমোনিয়া বা কান সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিরোধ
হাম বায়ুবাহিত রোগ, আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে সহজেই ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তি ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পরে পর্যন্ত সংক্রামক থাকে।
প্রতিরোধে করণীয়:
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা।
ঘর বাতাস চলাচলযোগ্য রাখা।
হাত ধোয়া ও টিস্যু ব্যবহার করা।
শিশুদের স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠানো যতদিন সংক্রমণ থাকে।
টিকা
হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর হলো MMR ভ্যাকসিন (Measles, Mumps, Rubella)।
প্রথম ডোজ: ১২–১৫ মাস বয়সে।
দ্বিতীয় ডোজ: ৪–৬ বছর বয়সে।
দুটি ডোজ নিলে হাম প্রতিরোধে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭%।ভ্যাকসিন নিরাপদ, দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয় এবং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মৃত্যু প্রতিরোধ করেছে।হাম একটি প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা নেওয়া, সচেতনতা ও সঠিক যত্ন নিলে এটি প্রতিরোধযোগ্য। শিশুদের অবশ্যই এমএমআর ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করতে হবে। আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা