প্রিন্ট এর তারিখ : ৩১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগরের স্কুল ও কলেজে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন এবং ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩১ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ঢাকাসহ সব মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অদূরদর্শী। তারা দাবি করেন, সরকার একদিকে দেশে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করছে, অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চাপিয়ে দিচ্ছে। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেন তারা।ছাত্রশিবিরের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, দেশে যদি সত্যিই জ্বালানি সংকট থাকে, তবে তার দায় সবার আগে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর কেন চাপানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রের অন্য সব খাত ও বিলাসিতা সচল রেখে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত জাতিকে মেধাশূন্য করার এক গভীর ষড়যন্ত্র।করোনাকালীন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অনলাইননির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা বহুমুখী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য ও ডিভাইসের অভাবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী শিখন ঘাটতি ও শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়। তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ কোমলমতিদের ডিভাইস আসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাসও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায়, পুনরায় একই পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি করা মানে জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া বলে মন্তব্য করেন তারা।জ্বালানি সংকট বা যানজট নিরসনের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষা অধিকার খর্ব করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।তারা অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সকল শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত ও সশরীরে পাঠদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যবহার সচল রেখে ক্লাস চালু রাখারও দাবি জানান তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা