প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ভাষণে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে, শেয়ারবাজারে ধসা
বিশ্ব ডেস্ক ||
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণকে ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলারের বেশি বেড়েছে। একইসঙ্গে এশিয়াসহ বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধস নেমেছে।তেলের বাজারে যুদ্ধের আঁচট্রাম্পের ভাষণের পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬.৩৩ ডলার বেড়ে ১০৭.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দামও ৫.২৮ ডলার বেড়ে ১০৫.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।ট্রাম্পের ভাষণের আগে দুই বেঞ্চমার্কের দামই এক ডলারের বেশি কমেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তনে জ্বালানি সংকট কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।এশিয়ায় শেয়ারবাজারে ধসমধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক (কসপি) ৪.২ শতাংশ কমেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় ১৭.৩ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ বাজেট পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জ ০.৮ শতাংশ, মালয়েশিয়ার সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১.১ শতাংশ এবং চীনের সাংহাই কম্পোজিট সূচক ০.৫৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোতে বড় দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।ট্রাম্পের ভাষণ ও অনিশ্চয়তাইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বুধবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং খুব দ্রুতই তা শেষ হবে।’ তিনি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বললেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেননি, যা বাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, বিমান বাহিনী বিপর্যস্ত, বেশির ভাগ শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন এবং আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্রদের ‘সাহস দেখানোর’ আহ্বান জানান। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধ আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের পাথর যুগে ফিরিয়ে দেব।’তবে ভাষণে তিনি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা, স্থলবাহিনীর ভূমিকা এবং যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।যুদ্ধের জটিলতা ও ট্রাম্পের অবস্থানবিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এই সংঘাতের কেন্দ্রীয় ইস্যু। ট্রাম্প কখনও ইরানকে ট্যাংকার চলাচল চালু করতে বলছেন, আবার কখনও মিত্রদের নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করতে বলছেন। বুধবার তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে যান, সেটি দখল করুন, সুরক্ষা দিন, নিজেরা ব্যবহার করুন। কঠিন অংশ শেষ, তাই এটা সহজ হওয়া উচিত।’অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববাজারের এই অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে। গ্যাসের গড় দাম চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট এখন যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, কিন্তু এখনো সেটি পাননি।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা