প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ সৌদি আরব, যুদ্ধনীতি-অপমানে বন্ধুত্বে ফাটলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গণবার্তা: ||
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গণবার্তা | প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৬ | আপডেট: ১৯:৫০ইরান যুদ্ধ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণ ও সৌদি যুবরাজকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র দেশ সৌদি আরবের সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। রিয়াদ এখন হোয়াইট হাউসের কৌশল ও আচরণে ‘চরম হতাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।অপমানে বিদ্ধ সৌদি যুবরাজগত শুক্রবার মিয়ামিতে সৌদি আরব আয়োজিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে (এমবিএস) নিয়ে প্রথমে ‘মহান বন্ধু,’ ‘বিজয়ী’ ও ‘যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করলেও ২০ মিনিট পর তিনি বলেন, ‘তিনি হয়তো ভাবেননি যে তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি অন্য কোনো পরাজিত প্রেসিডেন্ট হবো, কিন্তু এখন তাকে আমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।’থিংক-ট্যাংক চ্যাথাম হাউজের সৌদি বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়ামের মতে, সৌদি রাজপরিবার ও প্রশাসন ট্রাম্পের এই ‘অমার্জিত ও অনিশ্চিত’ আচরণে তীব্র ক্ষুব্ধ। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ব্যাপক বিনিয়োগ করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের অরক্ষিত মনে করছে।যুদ্ধের কৌশল নিয়ে মতভেদসৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধে অনিচ্ছাসত্ত্বেও জড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি শোধনাগার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বার্নার্ড হেকেল জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নিখুঁত হামলার সামনে সৌদি আরব নিজেদের ‘অত্যন্ত অরক্ষিত’ মনে করছে।তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প হঠাৎ করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে চলে গেলে ইরানের রোষানল একাই মোকাবিলা করতে হবে তাদের। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সৌদি আরবের বিশাল পরিকল্পনাকে (ভিশন ২০৩০) ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টায় রিয়াদসৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে আনার উদ্যোগ জোরদার করেছেন।জেদ্দাভিত্তিক উপসাগরীয় গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ সাগের বলেন, ‘সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং দ্রুত সমাপ্তিই এখন সৌদি অগ্রাধিকার।’তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের একতরফা পদক্ষেপ ও কৌশলগত অস্পষ্টতা এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করবে।সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা