প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠিা
নিউজ ডেস্ক ||
মার্কিন সাধারণ জনগণকে ‘ভুল তথ্যের বেড়াজাল’ ভাঙতে আহ্বান জানিয়ে একটি আবেগপূর্ণ খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই চিঠি প্রকাশ করেন তিনি।পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরানকে বিশ্ববাসীর কাছে হুমকি হিসেবে তুলে ধরাটা ঐতিহাসিক সত্য বা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বরং প্রভাবশালী মহলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লালসা চরিতার্থ করতে এবং অস্ত্র শিল্পের বাজার টিকিয়ে রাখতেই ইরানকে জোর করে শত্রু হিসেবে আবিষ্কার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন, বিস্তারবাদ বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি। বড় শক্তিগুলোর দখলদারিত্বের শিকার হয়েও কখনো আগে কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি তারা।প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের জনগণ আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো বিদ্বেষ পোষণ করে না। তবে কেউ আক্রমণ করলে ইরান অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তা প্রতিহত করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তা কি মার্কিন জনগণের কোনো উপকারে আসছে? নাকি এটি কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো অপরাধ থেকে বিশ্ববাসীর নজর সরানোর কৌশল।চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় অংশ ইরানের চারপাশের দেশে ঘাঁটি স্থাপন করেছে, যেখান থেকেই ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশ নিজের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি দাবি করেন, ইরান যা করছে তা সম্পূর্ণ বৈধ আত্মরক্ষা, কোনোভাবেই যুদ্ধের উস্কানি নয়।পেজেশকিয়ান মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি বর্তমান সরকারের কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ? তিনি তাদের ইরান ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন এবং বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অবদান রাখা সফল ইরানি অভিবাসীদের দিকে তাকাতে বলেন।এই চিঠি এমন এক সময়ে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করলেও ইরানের আগ্রাসনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করেননি তারা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা