প্রিন্ট এর তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬
ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত ও আন্দোলনে উস্কানি দিলে সরকারী চাকরি যেতে পারো
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ৯৮টি হুবহু বিল আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এটি আইনে পরিণত হতে যাচ্ছে। আইনটি পাস হলে ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বা আন্দোলনে উসকানি দিলে সরকারি চাকরিজীবীরা চাকরি হারাতে পারেন।অধ্যাদেশে সরাসরি ‘সভা-সমাবেশ’ বা ‘আন্দোলন’ শব্দ না থাকলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি অন্যকে কাজে বাধা দেন, অবৈধভাবে অনুপস্থিত থাকেন বা সহকর্মীদের কর্তব্য পালনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে সেটা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য তিন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে: নিম্নপদ বা নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, চাকরি থেকে অপসারণ ও চাকরি থেকে বরখাস্ত। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।উল্লেখ্য, অধ্যাদেশের প্রথম খসড়ায় কারণ দর্শানোর সুযোগ ছিল না, যা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ব্যাপক অসন্তোষ ও আন্দোলন হয়। পরে তা সংশোধন করে কারণ দর্শানোর বিধান যুক্ত করা হয়।অন্যদিকে, বিশেষ কমিটি ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-ও হুবহু পাসের সুপারিশ করেছে। বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে এটি প্রণয়ন করা হয়। এতে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯টি বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ওই আইনে হওয়া সব মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ধর্মীয় ঘৃণা ও সহিংসতা উসকানিমূলক কনটেন্টকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ধর্মীয় ঘৃণা সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে হয়রানি ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।এ ছাড়া ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-ও সংশোধনী এনে পাসের সুপারিশ করেছে কমিটি। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করেছিল। সংশোধনীতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সভা-সমাবেশ, প্রচারণা, বক্তৃতা ইত্যাদির শাস্তির বিধান স্পষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা