প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিরতির পর শান্তি চুক্তির আশায় ইসলামাবাদে শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গণবার্তা: ||
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দেড় মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরালো হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এখন শান্তি চুক্তির পথে আরেকটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। আগামী শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। লেভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট তার আলোচক দলকে ইসলামাবাদে পাঠাচ্ছেন। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার সকালে (স্থানীয় সময়) আলোচনার প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হবে।’বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের প্রতিনিধি দলে থাকবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনাটি হবে সরাসরি এবং সশরীরে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জেরে প্রায় দেড় মাস ধরে চলে তীব্র সংঘাত। এতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিও হামলার শিকার হয়।গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিতে রাজি হয় ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’যুদ্ধবিরতির সময় দুই সপ্তাহ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করতে চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি তাদের আলোচনার শীর্ষ অগ্রাধিকার। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিয়ে নেবে।অন্যদিকে ইরান ১০ দফা একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি তহবিল ও সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং পুনর্গঠনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি। তবে ইরানও আশ্বস্ত করেছে, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না।হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লেভিট জানিয়েছেন, এই সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। বেইজিং নিয়মিত ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় চীনের গঠনমূলক সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদ আলোচনা দুই দেশের মধ্যে টেকসই শান্তি স্থাপনে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কিছু মতপার্থক্য রযে গেছে। আগামী শনিবারের বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা