প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
পহেলা বৈশাখে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, মুখোশ পরা নিষিদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ জাতীয়ভাবে এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী আনন্দঘন পরিবেশে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।সভায় সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হলো—রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি থাকবে। অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে পারবেন না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে। প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে প্রদর্শন করা যাবে না যাতে মুখ ঢেকে থাকে।মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের শুরুতে যোগ দিতে হবে। মাঝপথে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফুটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ৩০০ ফিট এলাকায় মোটরসাইকেল বা কার রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আর্চওয়ে থাকবে। ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার রোধে দেশব্যাপী সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।সব বড় অনুষ্ঠানস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা রোধে ডুবুরি দল থাকবে।পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না।সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দিয়াশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয় সম্বলিত নোট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পুরোনো সব জীর্ণতা মুছে চৈত্রের দাবদাহ পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন নতুন বছরের আগমনী বার্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে দিনরাত এক করে কাজ করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’।জয়নুল গ্যালারির সামনে চলছে মাটির সরায় আলপনা আঁকা, জলরঙে গ্রামবাংলার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা, বাঘ, প্যাঁচাসহ নানা কল্পিত চরিত্রের মুখোশ তৈরির কাজ। নিজেদের তৈরি শিল্পকর্ম বিক্রি করে শোভাযাত্রার তহবিল সংগ্রহ করছেন শিক্ষার্থীরা।এবারের শোভাযাত্রায় লোকজ ঐতিহ্যের মিশেলে পাঁচটি প্রধান মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে—লাল ঝুঁটির মোরগ, দোতারা, সোনারগাঁয়ের কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা এবং কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী টেপা ঘোড়া। সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ ও লোকসংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে দোতারা।চারুকলার শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরে বিভিন্ন কারণে অনেকে অংশ না নিলেও এবার শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের ভাষায়, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য শুধু উৎসব নয়, এটি আমাদের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ।’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় নববর্ষ উদযাপনের সার্বিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘আমাদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত উপাদানগুলোর ইতিহাস-ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরেও বৈশাখের মর্যাদা বেড়েছে বহুগুণ। পান্তা-ইলিশ, পিঠা-পুলি আর বাউল-ভাটিয়ালির সুরে উৎসবের আনন্দে মাতোয়ারা হতে প্রহর গুনছে গোটা দেশ। সিনিয়র সচিব জানিয়েছেন, বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির এই উৎসবকে নিরাপদ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের ভূমিকা পালন করবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা