প্রিন্ট এর তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের পর মরদেহ দাফন, সিদ্ধান্ত নিল ৯ বছরের ছেলো
নিউজ ডেস্ক ||
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় কাজী সোহাগ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মরদেহ দাফন না দাহ করা হবে—এ নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মৃতের ৯ বছর বয়সী ছেলে আব্দুর রহমানের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সোহাগের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মোল্লাহাট থানায় নেওয়া হয়। সেখানে মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন মৃতের ছেলে আব্দুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি কী চাও?’ জবাবে শিশুটি বলে, ‘আমি চাই আমার বাবাকে দাফন করা হোক।’ছোট এই শিশুর দাবির পর প্রশাসন সোহাগের মরদেহটি ছেলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বপুলিশ ও প্রশাসন সূত্র জানায়, সোহাগের পূর্ব নাম ছিল সুব্রত পোদ্দার কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার তেঘরিয়া গ্রামের শুকলাল পোদ্দার ও রিতা রানী পোদ্দারের ছেলে। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন কাজী সোহাগ। পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের মাঠলা তেতুলিয়া এলাকার মমতাজ মিমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে এক ছেলে রয়েছে।গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানদের না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মোল্লাহাটের উত্তরআমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী মমতাজ মিম ও মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আব্দুর রহমান প্রতিবাদ জানান। তারা মুসলিম বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবি তোলেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ-প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ হেফাজতে নেয়।মৃতের মা রিতা রানী পোদ্দার দাবি করেন, তার ছেলে পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, তাই দাহ করা উচিত। তবে তিনি ছেলের পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার কোনো দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি।মোল্লাহাট থানার ওসি কাজী রমজানুল হক জানান, মৃতের শিশু ছেলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন মরদেহ ছেলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা