প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
গুম ও নির্যাতন নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ, বক্তব্য দিলেন মাসরুর আনোয়ারা
নিউজ ডেস্ক ||
র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেছিলেন তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। তবে আদালতের জেরায় সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন গুম থেকে ফিরে আসা সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বলেন, গুম-নির্যাতন ও আমার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে জেরার সময় তিনি এ কথা বলেন।এ মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হয়ে জেরা করেন আমির হোসেন। মাসরুরকে গুম-নির্যাতন ও ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য তার মক্কেল শেখ হাসিনা দায়ী নন বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য সাক্ষী নিজেই দায়ী বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। জবাবে মাসরুর বলেন, গুম-নির্যাতন ও তার ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী, কোনোভাবেই তিনি দায়ী নন এবং ট্রাইব্যুনালে অসত্য কোনো সাক্ষ্য দেননি।মাসরুর আনোয়ারকে জেরা করেন তাবারক হোসেন, আবুল হাসানসহ অন্য আইনজীবীরা। জেরায় সাক্ষীকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন তারা। এদিকে, ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লেখার কারণে গুম করা হয়েছিল বলে আদালতের জেরায় উল্লেখ করেছেন সাক্ষী মাসরুর। আটকের পর মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয়েছিল কি না—আইনজীবীর প্রশ্নে মাসরুর জানান, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয় তাকে, কিন্তু মুছে ফেলতে বলা হয়নি। তিনি নিজেও তা সরিয়ে নেননি। তবে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডসহ সবকিছু তারা নিয়ে নেন, যা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।এ সময় সাক্ষীর উদ্দেশে আইনজীবী তাবারক বলেন, বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে ফেসবুকে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ার কারণে মাসরুরকে আটক বা গুম করা হয়নি, বরং জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আটক করা হয়। আইনজীবীর এই দাবি সত্য নয় জানিয়ে মাসরুর বলেন, মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণেই তাকে আটক করা হয় এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।জেরায় তিনি উল্লেখ করেন, এটা সত্য নয় যে, কৌশল খাটিয়ে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথিত টিএফআই সেল পরিদর্শনে যান এবং সেখানকার সবকিছু দেখে এ সংক্রান্ত একটি গল্প বা নাটক তৈরি করেন। তিনি বলেন, টিএফআই সংক্রান্ত সব কথা অসত্য। এ পর্যায়ে সাক্ষীর কাছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ তৈরির অর্থ সংগ্রহের তথ্য জানতে চান তাবারক। একই সঙ্গে চ্যারিটির কার্যক্রমের আড়ালে জঙ্গি তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রত্যুত্তরে মাসরুর বলেন, তার সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মসজিদ তৈরি করেন এবং এ কাজের আড়ালে অন্য কোনো তৎপরতা চালানো হয়নি।তাবারক দাবি করেন, মাসরুর মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকের মুক্তি পরিষদ নামে সংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় একজন লোক, অথচ জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। জবাবে সত্য নয় জানিয়ে মাসরুর বলেন, মুক্তি পরিষদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই এবং কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে জিয়াউল হককে বরখাস্তের খবরটিও তার জানা নেই।এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৭ জন। এর মধ্যে সাবেক ও বর্তমান ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক আছেন। এ মামলার তিন নম্বর সাক্ষীর জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা