প্রিন্ট এর তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত, চরম সংকটের মুখে পেন্টাগনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গণবার্তা: ||
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী অস্ত্রভাণ্ডার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের বিশাল অংশ শেষ হয়ে গেছে, যা পেন্টাগনকে তাদের এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ডের অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য করছে।যুদ্ধব্যয় ও অস্ত্রের ঘাটতিপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় এখনো জানায়নি হোয়াইট হাউস। তবে স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলো বলছে, যুদ্ধে ব্যয় ইতিমধ্যে ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। প্রায় ৪০ দিনের এই সংঘাতে প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার।ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সক্ষম প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস গ্রাউন্ড-ভিত্তিক মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুতে। অত্যাধুনিক এসব সমরাস্ত্র উৎপাদন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় স্বল্প সময়ে শূন্যতা পূরণ কঠিন বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রভাবসামরিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের এই সংকটের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপ থেকে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ায় অঞ্চলগুলোর মিত্রদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে গিয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।পেন্টাগন বর্তমানে প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করলেও বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। পুরো বিশ্ব এখন নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাদের এই সামরিক ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠে।সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য মিডল ইস্ট আই
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা