প্রিন্ট এর তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
বোয়ালমারীতে প্রেমের বিয়ে ও মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধ, খুন রবিউলা
নিউজ ডেস্ক ||
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেমের বিয়ে, দাম্পত্য কলহ ও একটি মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। মোটরসাইকেল ফিরিয়ে আনতে গিয়ে রবিউল ইসলাম নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। হত্যার পর ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে উপজেলার ময়না ইউনিয়নের হাটখোলারচর গ্রামের সড়কের বটতলা এলাকায়। নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় ট্রাক্টর চালক ছিলেন। তার স্ত্রী ও একটি ১১ বছর বয়সী সন্তান রয়েছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে করেন বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখ ও মাগুরার সাইদ মোল্লার মেয়ে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। সম্প্রতি ঝগড়ার জেরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল তার শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়ে অন্যত্র বন্ধক রেখেছিলেন। এই নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। মঙ্গলবার দুপুরে শ্বশুর সাইদ মোল্লা প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে নিয়ে মোটরসাইকেল ফেরত নিতে জামাইয়ের বাড়িতে যান। কিন্তু মোটরসাইকেল দেওয়া না দেওয়া নিয়ে তর্ক হয়। পরে তাঁরা কিছু না পেয়ে ফিরে যান।পরে বিকেলে শহিদুল আবার ফোন করে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে তাদের ডেকে পাঠায়। অভিযোগ রয়েছে, এটি ছিল পরিকল্পিত ফাঁদ। দ্বিতীয়বার গিয়ে শ্বশুর সাইদ মোল্লাকে এক মাতুব্বরের বাড়িতে বসিয়ে রাখা হয় এবং কৌশলে রবিউলকে আলাদা করে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর শহিদুল শ্বশুরকে বলে, ‘আপনি চলে যান, কাল সকালে মোটরসাইকেল পৌঁছে দেওয়া হবে।’ ওই সময় থেকে রবিউল নিখোঁজ ছিলেন।রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই সড়কে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। গাড়ি উদ্ধারের সময় পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান তাঁরা। মোবাইল ফোন দেখে শনাক্ত হয়, তিনি রবিউল ইসলাম।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেটকারে চার থেকে পাঁচজন যুবক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন পালিয়ে গেলেও শাহাজাদা ও তপু সাহা নামে দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ধারণা, হত্যার পর মরদেহ ফেলে পালানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত শহিদুল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক। তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।নিহতের বাবা গোলাম সরোয়ার শেখ অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেল আনতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে হচ্ছে। নিহতের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধ ও প্রাইভেটকারের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা