প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
নবম পে-স্কেল ‘চূড়ান্ত হচ্ছে’ বৃহস্পতিবারা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
আগামী অর্থবছরের শুরুতে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত কমিটি আবার বৈঠক ডেকেছে। কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তের পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত রূপপে-কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকুরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।ধাপে ধাপে বাস্তবায়নসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ পাবেন এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। আর এর পরের অর্থাৎ ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন কাঠামোর সঙ্গে আনুষঙ্গিক সব ভাতা ও বাড়তি আর্থিক সুবিধাগুলো যুক্ত হবে।সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের প্রস্তাবনতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।নিম্ন ও মধ্যম স্তরে বেশি বৃদ্ধিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নবম পে স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রাখা হতে পারে।কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনবম পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুপারিশপেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনের হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান এমন ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।নবম পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের বৈঠক বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়বে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার প্রস্তাব স্বস্তি দিতে পারে। অন্যদিকে পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ আরও বড় খবর। এখন দেখার বিষয়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে চূড়ান্ত সুপারিশে কতটুকু সমন্বয় হয় এবং আগামী বাজেটে এজন্য কত বরাদ্দ রাখা হয়। জুলাই থেকে বাস্তবায়ন শুরু হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমানের উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা