প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
সেনা কর্মকর্তা নির্জন হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডা
বিশ্ব ডেস্ক ||
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আরও ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।ঘটনার পটভূমিমামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। লেফটেন্যান্ট নির্জনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে এক ডাকাতকে আটক করলে অন্যরা তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে গুরুতর আহত হন লেফটেন্যান্ট নির্জন। তাকে দ্রুত রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মামলা ও তদন্তএ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, বাকি ৬ জন এখনও পলাতক।রায় ঘোষণাবুধবার দুপুর ১২টায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে এজাহারনামীয় ও অভিযুক্ত ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।সাক্ষীদের হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতাহত্যাকাণ্ডের এক বছর পরও মামলার সাক্ষীরা হুমকি-ধমকির মুখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. তৌহিদুল এহসান জানান, ‘নিরপেক্ষ সাক্ষী যখন কোর্টে উপস্থিত করি, কোট এজলাসে ডাকাত হেলাল বিভিন্ন হুমকি দেয়। বিষয়টি আমরা কোর্টকে জানিয়েছি।’ চকরিয়া ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. ফখরুদ্দিন জানান, সত্য সাক্ষী দেওয়ায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য কামনা করেছেন।এলাকায় এখনো ডাকাতের ভয়ঘটনার পর বদলে গেছে পুরো গ্রামের পরিস্থিতি। এখনো রাত নামলে ভয়ে থাকেন স্থানীয়রা। যে কোনো সময় আবারও ডাকাত দল হানা দিতে পারে এই আতঙ্কে সন্ধ্যার পর অতি জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হন না তারা। ভুক্তভোগী মিনা আকতার বলেন, ‘ডাকাতের কথা শুনে এখনো ভয় লাগে। যেসব ডাকাত ধরা পড়েনি তারা আবার আমাদের ওপর হামলা করতে পারে এই ভয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি না।’পুলিশের বক্তব্যকক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জেলা পুলিশ থেকে যতটুকু সাপোর্ট দেওয়ার দরকার, আমরা সাপোর্ট দিচ্ছি। কোনো সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের কাছে আছে। প্রতিটি সাক্ষীর খোঁজখবর আমাদের কাছে আছে।’লেফটেন্যান্ট নির্জনের পরিচয়টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন ২০২২ সালে ৮২তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি থেকে আর্মি সার্ভিস কোরে কমিশন লাভ করেছিলেন।সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট নির্জন হত্যা মামলার এই রায় ডাকাত দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্যাগের স্বীকৃতি। তবে সাক্ষীদের প্রকাশ্যে হুমকি ও এখনো পলাতক ৬ আসামি থাকায় সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জের মুখে। এলাকায় এখনো ডাকাতের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি। প্রশাসনের উচিত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই রায় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি বার্তা— দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারীরা আইনের চোখে সম্মানিত।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা