প্রিন্ট এর তারিখ : ২১ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
১ জুলাই থেকে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে নবম জাতীয় পে-স্কেল। তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় আগামী ১ জুলাই থেকেই বাড়তে পারে বেতন। প্রথম দুই বছরে মূল বেতনে ৫০ শতাংশ করে সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার।তিন ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। এ ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ পরবর্তী অর্থবছরে আবারও মূল বেতনের ওপর সমপরিমাণ সমন্বয় যুক্ত হবে। তবে এই সময় পূর্বের ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আগের মতো বহাল থাকবে।ভাতা যুক্ত হবে তৃতীয় বছরেদুই বছরের মধ্যে মূল বেতনের পূর্ণ সমন্বয় সম্পন্ন হবে। তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, বিশেষ প্রণোদনা, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা একযোগে কার্যকর করা হচ্ছে না। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এসব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা তৃতীয় বছর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করা হবে।আর্থিক পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দএজন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একবারে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।নিম্ন ও মধ্যম স্তরে বেশি বৃদ্ধিকমিটির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ মূল্যস্ফীতির চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। একই সঙ্গে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনারও সুপারিশ থাকতে পারে।কারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেননবম পে-স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুপারিশসাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন ১০০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি হতে পারে। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত।পরবর্তী প্রক্রিয়াঅর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, পুনর্গঠিত কমিটির বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপরই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার সুপারিশ চাপ কমাতে সহায়তা করবে। তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে সম্মান জানিয়েও চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা। পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগ পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে তা হবে আরেকটি মাইলফলক। এখন অপেক্ষা শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা