প্রিন্ট এর তারিখ : ২৫ মে ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
২ বছর পর পুকুর খনন করে উদ্ধার সৎ মা ও শিশুপুত্রের কঙ্কালা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিখোঁজের আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়াবহ জোড়া হত্যাকাণ্ড। প্রায় দুই বছর পর পুকুর খনন করে উদ্ধার করা হয়েছে মা ও শিশুপুত্রের কঙ্কাল। এ ঘটনায় নিহত নারীর দুই সৎ ছেলে ও এক নাতিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। নিহতরা হলেন কমলা বেগম (৩২) ও তার ছেলে নোমান (৯)।কমলা ছিলেন আবুল কালাম আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সৎ সন্তানদের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। তবে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কমলা ও তার শিশুপুত্রকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ দুটি বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির পুকুরে মাটিচাপা দিয়ে গুম করা হয়।ঘটনার দুই মাস পর, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর থানায় জিডি করে দাবি করেন, তার সৎ মা নিখোঁজ। তবে কমলার বোন রহিমা বেগম বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে আদালতে পিটিশন মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি।দীর্ঘ অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গ্রেপ্তার করা হয় সাগর, রাজু ও নাতি টিপুকে। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রোববার বাড়ির পুকুরে ভেকু মেশিন দিয়ে খনন চালিয়ে উদ্ধার করা হয় মা-ছেলের কঙ্কাল।সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সৎ মা ও শিশু সৎ ভাইকে হত্যার পর ‘নিখোঁজের জিডি’ করেছিলেন অভিযুক্ত সৎ ছেলেই। প্রায় দুই বছর পর পুকুর খনন করে উদ্ধার হলো মা-ছেলের কঙ্কাল। সম্পত্তির লোভ কতটা নিষ্ঠুরতা তৈরি করতে পারে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা। কমলার বোনের সতর্ক চোখ ও আইনি লড়াই না থাকলে হয়তো গুম হয়েই পড়ে থাকত দুইটি মরদেহ। এখন সঠিক বিচারই পারে ন্যায় ফিরিয়ে দিতে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা