প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট: ১০ টি খাতে অগ্রাধিকার া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট। এটি বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট।বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে এ বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যবাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ ১০টি অগ্রাধিকার খাত ঘোষণা করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে।প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।১০ অগ্রাধিকার খাতএ লক্ষ্য অর্জনে সরকার ১০টি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে:১. সবার জন্য উন্নয়নসরকারের ঘোষিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী সবার জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব অঞ্চলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।২. সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।৩. সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষাতৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।৪. বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতিবিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থানমুখী ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হবে।অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতবাকি ছয়টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন—দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইটি খাত ও স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ানোদারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বৈষম্য হ্রাস—ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির উদ্যোগনারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন—নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্ব উন্নয়নটেকসই পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও অভিযোজন কার্যক্রমসুশাসন ও জবাবদিহিতা—প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধবাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জঅর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি। পাশাপাশি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ও ঋণের বোঝা অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।তবে সরকার আশাবাদী, বাজেটে ঘোষিত সংস্কার ও উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং প্রবৃদ্ধি বাড়বে। আগামী কয়েক দিনে সংসদে বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনা হবে, এরপর বিভিন্ন খাতভিত্তিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা