প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
মৌলভীবাজারে শ্রমজীবী নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২া
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
মৌলভীবাজারে শ্রমজীবী এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ।গ্রেপ্তাররা হলেন—ফেরদৌস হোসেন (৩১) ও কন্নাল মিয়া ওরফে জয়নাল (৩৯)। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।ভোরে বাসায় ঢুকে নৃশংসতাপুলিশ সূত্র জানায়, ৩ জুন ভোরের দিকে শহরের একটি ভাড়া বাসায় শ্রমজীবী ভুক্তভোগী নারী তার শিশু কন্যাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় তিন দুষ্কৃতকারী কৌশলে দরজার ছিটকিনি খুলে মুখোশ পরা অবস্থায় ঘরে প্রবেশ করেন।পরবর্তীতে তাদের দুজন ওই নারীকে ধর্ষণ করেন এবং অপরজন মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন।গ্রেপ্তার ও জবানবন্দিসদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক অন্যজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তারা।ভুক্তভোগী অসহায়, শিশুকন্যাও ছিল ঘটনাস্থলেজানা গেছে, ওই নারী দিনমজুরের কাজ করেন। সংসার চালাতে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ঘটনার সময় তার শিশুকন্যাও ঘরে উপস্থিত ছিল। প্রতিবেশীরা জানান, ওই নারী এখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। তিনি তার শিশুকন্যাকে নিয়েও চরম উদ্বিগ্ন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তারা।আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেএ ঘটনায় সদর থানায় মামলাটি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর এলাকাবাসী পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা আসামি গ্রেপ্তারে সহায়ক হয়েছে। তিনি অভিযোগকারীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পলাতক অপর আসামিকে শিগগিরই গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা একা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের কথা বলা হয়েছে।নৃশংস এই ধর্ষণের ঘটনায় মৌলভীবাজারের নারী সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা