প্রিন্ট এর তারিখ : ১২ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে এসেই দুই দেশের ‘এক হয়ে যাওয়ার’ প্রস্তাব নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি—এই দুই মিললে দাঁড়ায় ১৬০ কোটি। তার মতে, দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে তা বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এক বিশাল জনশক্তিতে রূপ নেবে। এজন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।‘একটা শক্তি হলে হবে না, দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে সেটাই আসল’বাংলাদেশের মাটিতে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইকমিশনার প্রশাসনিক কোনো কথার বদলে সরাসরি ‘এক হওয়ার’ প্রস্তাবনা দিয়ে বসেন। তিনি বলেন, “একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে, ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে।”তিনি আরও বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের যে প্রতিভা আছে, তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি—সবকিছু নিয়ে কাজ করবেন তিনি। দুই দেশের প্রতিভা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ জানান নবনিযুক্ত এই কূটনীতিক।‘অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে দুই দেশ’বেনাপোল স্থলবন্দরে আগমনের পর সাংবাদিকরা সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু ও ভ্রমণ-বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে। দুই দেশের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।সরাসরি পুশইন বা চলমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়ে তিনি তেমন কিছু বলেননি। তবে ‘উভয় দেশের স্বার্থে কাজ করা’ হবে বলে দর্শকদের আশ্বস্ত করেন।নোম্যান্সল্যান্ডে স্বাগতমবাংলাদেশে আসার সময় নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।বেনাপোল স্থলপথে তার আগমনে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যবৃন্দ। করোনা-পরবর্তী সময়ে স্থলপথে সরাসরি কূটনীতিকের যাতায়াত বাড়ায় এটিকে ইতিবাচক অঙ্গীকার হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।ইতিহাসে প্রথম ‘রাজনীতিবিদ’ হাইকমিশনারগত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার করা হলো।তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।বাংলাদেশে আসার আগে যা বলেছিলেন হাইকমিশনারদিনেশ ত্রিবেদী যাত্রার শুরুতে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি খুবই আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত। বাংলাদেশে আমি পূর্বে অনেকবার এসেছি, কিন্তু এখন দায়িত্ব নিয়ে আসছি। গত ৭ বছর ধরে আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আবার নতুন করে কূটনৈতিক জগতে কাজ করতে পেরে ভালো লাগছে।”বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দিনেশ ত্রিবেদীকে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য অ্যাসাইনমেন্ট’ (অ্যাগ্রিমো) দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দিতে পারেন। তবে নিজ দেশের সরকারি কাজ শেষে শুক্রবার (১২ জুন) সকালে তিনি সপরিবারে স্থলপথে ঢাকায় আসেন।কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ানতুন হাইকমিশনারের প্রথম বক্তৃতা কূটনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। ‘এক হওয়া’ ও ‘১৬০ কোটি জনশক্তি’ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলছেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার কথা বলছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা সংকুচিত করার ইঙ্গিত দেয় এই বক্তব্য।তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।দিনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের শেষে বলেন, “আমি আশাবাদী। দুই দেশের মধ্যকার সব বাধা দূর হবে। শুধু বাণিজ্য সীমান্ত নয়, মানুষের হৃদয়ের সীমান্তও খুলে যাবে।” আগামী দিনগুলোতে তিনি ঢাকায় এসে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন দফতরে পরিচয়পত্র জমা দেবেন এবং আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা