প্রিন্ট এর তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬
টাইগারের হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন ভেঙ্গে শেষ ওভারে অসিদের নাটকীয় জয়া
স্পোর্টস ডেস্ক ||
শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পরও হেরে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার মতো ছয়বারের বিশ্বকাপজয়ী দলকে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ পেয়েও তা হাতছাড়া করল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ৩ বল হাতে রেখে ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ায় অস্ট্রেলিয়া।মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার (১৪ জুন) অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।প্রথম ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জিতে আগেই সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নজির গড়ে টাইগাররা। কিন্তু হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন অপূর্ণই রইল।বাংলাদেশের ইনিংস: লিটন-হৃদয়-মোসাদ্দেকের ব্যাটে লড়াকু পুঁজিটস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ৪২ রান করা সৌম্য সরকার আজ ফেরেন মাত্র ২ রানে।অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তিনি ২০ বলে ২টি চার ও ১টি ছয়ে ১৯ রান করেন। ৫০ বল খেলে মাত্র ২৪ রান (৩টি চার) করে ফেরেন অধিনায়ক শান্ত।৬১ রানে ৩ উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে তারা ১০৯ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১৫৩ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। তিনি ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছয়ে ৫৮ রান করেন। পরে ফিরে এসেও ব্যাটিংয়ে নামেননি তিনি।লিটন বিদায়ের পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে ৮১ বলে ৯০ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। দলীয় ২৪৬ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন হৃদয়। তার আগে ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৮৩ রান।শেষদিকে মোসাদ্দেক ঝড়ো ব্যাটিং করেন। তিনি ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছয়ে অপরাজিত ৫৬ রান করেন। মাহেদী হাসান ৯ বলে ৩ রান করেন। ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে।অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস: কনোলির একক অভিযান, শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের নাটকীয় জয়টার্গেট তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন ও মোস্তাফিজকে চড়াও হয়ে প্রথম চার ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান সংগ্রহের পর মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারায় তারা।শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। তিনি ১২ বলে ৪টি চারে ২১ রান করেন। ওয়ান ডাউনে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন ম্যাট রেনশ (০)।এরপর সৌম্য সরকারের অসাধারণ ক্যাচে ফেরেন অ্যালেক্স কেরি। তিনি ১৬ বলে ১টি চারে ৮ রান করেন। ৭০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।চতুর্থ উইকেটে ওপেনার কুপার কনোলির সঙ্গে ৭৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন মার্নাস লাবুশেন। দলীয় ১৩৪ রানে লাবুশেন ফেরেন। তিনি ৪৫ বলে ১টি চারে ২৯ রান করেন।পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়েন কনোলি। গ্রিন ৩৫ বলে ১টি চার ও ১টি ছয়ে ২৭ রান করে মাহেদী হাসানের শিকার হন।এরপর অলিভার পিককে সঙ্গে নিয়ে আরও ৬৪ রানের জুটি গড়েন কনোলি। পিক ২৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।এক পর্যায়ে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ২৬৬ রান। জয়ের জন্য ৩০ বলে দরকার ছিল মাত্র ৯ রান। হাতে ছিল ৫ উইকেট। খেলার এমন অবস্থায় মনে হয়েছিল হেসে খেলেই জয় পাবে অস্ট্রেলিয়া।কিন্তু এরপর মাত্র ৫ রানে ৪ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে রীতিমতো কোণঠাসা করে ফেলে বাংলাদেশ। নাটক শুরু হয় এখান থেকেই।শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং, ক্যাচ মিসের আক্ষেপ৪৬তম ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেন শরিফুল। মাত্র ১ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট। ৪৭তম ওভারে মোস্তাফিজ খরচ করেন মাত্র ৩ রান। ৪৮তম ওভারে কোনো রান খরচ করেননি শরিফুল।জয়ের জন্য ১২ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৫ রান। বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ উইকেট। ৪৯তম ওভারে ২ রান খরচ করলেও অস্ট্রেলিয়ার সেট ব্যাটসম্যান কুপার কনোলিকে আউট করে দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখান মোস্তাফিজ। কনোলি ১৩৪ বলে ১৩টি চার ও ৬টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ১৪৯ রান করে আউট হন।শেষ ওভারে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১ উইকেট। শেষ ওভারের প্রথম বলে ১ রান খরচ করেন তাসকিন। দ্বিতীয় বলে রান নিতে পারেনি অসিরা। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা।তবে ম্যাচের গতিপথ বদলে যেতে পারত কয়েকটি ক্যাচ ধরা পড়লে। তানভীর কনলির ক্যাচ মিস করেন। মোস্তাফিজকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন ডোয়ারশুইস, ডাইভ দিয়েও এই পেসার ধরতে পারেননি ক্যাচটা। এরপর শরিফুলের ওভারে আবারো ক্যাচ ওঠে গালিতে, কিন্তু এবারো জাম্পার ক্যাচটা ধরতে পারেননি তামিম। সেই মিস ক্যাচের মাশুল গুনতে হয় টাইগারদের।শরিফুলের রেকর্ড, অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক এড়ানোবাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। তিনি ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন। এটি তার ওডিআই ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও মাহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন।অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কুপার কনোলি ১৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মার্নাস লাবুশেন ২৯, ক্যামেরন গ্রিন ২৭, অলিভার পিক ২৭ ও জশ ইংলিস ২১ রান করেন। অ্যাডাম জাম্পা অপরাজিত ছিলেন ৪ রানে।এই জয়ে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া, তবে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে টাইগাররা নিশ্চিত করেছিল ইতিহাস। কিন্তু হোয়াইটওয়াশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাদটা কিছুটা মধুর হয়ে থাকল।ম্যাচ শেষে টাইগার সমর্থকেরা শরিফুলের অসাধারণ বোলিং ও শেষ ওভারের রোমাঞ্চের পরও হতাশ। মিস ক্যাচ আর শেষ মুহূর্তের ব্যর্থতায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে তাদের। ক্রিকেটবিশ্ব আজ দেখল রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ, যেখানে শেষ বাঁশি পর্যন্ত কে জিতবে বোঝা যায়নি
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্ব সংরক্ষিত গণবার্তা